আমিরাতে বাংলাদে‌শিদের ভিসা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, কারণগুলো শনাক্ত করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। সে অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

আজ সোমবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, দুবাইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ইউএইতে বাংলাদেশ মিশন ইতোমধ্যে যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের কাছ থেকে তথ্য চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকে ইউএইতে ফ্যামিলি, স্টুডেন্ট, ট্যুরিস্ট ও এমপ্লয়মেন্ট ভিসা এবং এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে ভিসা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ও স্থবিরতার বিষয়েও সরকার অবগত রয়েছে। যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভিসা সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

ভিসা জটিলতা নিরসনে সরকারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুবাই সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশি সিআইপি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বিনিয়োগের বিষয়ে আরিফুল বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা হাইটেক পার্কে জমি, প্লট বা অবকাঠামোর জন্য বিশেষ কোটা দেওয়ার পাশাপাশি কর সুবিধা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিডা, কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দাখিল ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে ওয়ান-স্টপ ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘ডিজিটাল ও দ্রুততর সেবা’ নিশ্চিত করা হবে।

আরিফুল হক আরও বলেন, প্রবাসীদের জন্য যৌক্তিক উড়োজাহাজ ভাড়া নিশ্চিত করতে টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙার বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় ও এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ইউএইতে থাকা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের তাদের কর্মীদের হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার শিগগির একটি সর্বজনীন ও স্বচ্ছ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করবে। এর লক্ষ্য হবে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং প্রবাসীদের বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সাশ্রয়ী ও অগ্রাধিকারভিত্তিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া।

 

Related Articles

Latest Posts