রাজস্ব খাত সংস্কারের দাবিতে গত বছরের আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২১ কর্মকর্তার ওপর আরোপিত বিভাগীয় শাস্তি মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আজ রোববার পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে রাজস্ব খাতের সংস্কার নিয়ে আন্দোলনের সময় কয়েকজন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে তাদের বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন। এ ঘটনাকে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ১২ মে অন্তর্বর্তী সরকার ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করার পর আন্দোলন শুরু হয়। প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন জুনের শেষ দিকে সারা দেশের কাস্টমস ও কর কার্যালয়ের কার্যক্রমে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায়।
টানা কয়েক দিন রাজধানীর এনবিআর সদর দপ্তরসহ দেশের সব কাস্টমস ও কর কার্যালয়ে কাজ বন্ধ ছিল। এনবিআরের ইতিহাসে এমনভাবে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে আয়োজিত আন্দোলনে দেশজুড়ে অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল ও সমাবেশ হয়। এতে রাজস্ব খাতের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
অর্থবছর শেষ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ অচলাবস্থা তৈরি হয়, যখন রাজস্ব আদায়ের ওপর চাপ ছিল। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় এনবিআর কর্মকর্তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
আন্দোলনের সময় কয়েকজন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন। অন্যরা আন্দোলন সংগঠনে ভূমিকা রাখেন। কয়েকজন নিজ নিজ কার্যালয় বন্ধ রেখে আন্দোলনে অংশ নেন।
কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করে।
আইআরডি জানিয়েছে, পরে কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। তাদের সেই আবেদন রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেছেন।
শাস্তি মওকুফ পাওয়া ২১ কর্মকর্তা
শাস্তি মওকুফ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) মো. জাকির হোসেন।
যুগ্ম কর কমিশনাররা হলেন মোর্শেদ উদ্দিন খান, মাসুমা খাতুন, মো. মামুন মিয়া, মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা ও মো. সানোয়ারুল কবির।
অতিরিক্ত কর কমিশনাররা হলেন মুরাদ আহমেদ, মির্জা আশিক রানা, হাসান মুহাম্মদ তারেক রেকাবদার, সিফাত-ই-মরিয়ম, সুলতানা হাবিব, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, এএএম আমিমুল এহসান খান ও সাধন কুমার কুন্ডু।
উপকর কমিশনারদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, মো. জিল্লুর রহমান, মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলাম ও মো. শাহাদাত জামিল।
রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর।
আইআরডি সূত্র জানিয়েছে, আরও তিন কর্মকর্তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তারাও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করেছেন।

