আজ সিস্টার্স ডে, মানে বোন দিবস। পৃথিবীতে এমন কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলোর ব্যাখ্যা অভিধানে পাওয়া যায় না। বোনের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক তেমনই। কখনো সে সবচেয়ে বড় শত্রু, আবার বিপদে পড়লে প্রথম যে মানুষটি ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, সে-ও এই বোন।
শৈশবের কথা ভাবুন। একটি চকলেট নিয়ে যুদ্ধ, টিভির রিমোট কে ধরবে তা নিয়ে তর্ক, মায়ের কাছে কে আগে নালিশ করবে—এসব নিয়ে দিনের পর দিন ছোটখাটো যুদ্ধ চলে। কিন্তু বাইরের কেউ যদি ভাই বা বোনের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলে, তখন বোনই পাশে দাঁড়ায়। এভাবে বোনের সঙ্গে তৈরি হয় এক অন্যরকম বন্ধন।
প্রায় সব পরিবারেই বড় বোনের একটা অদৃশ্য দায়িত্ব থাকে। মায়ের বকুনি থেকে ছোটদের বাঁচানোর চেষ্টা করে, আবার প্রয়োজনে নিজেই বকা দেয়। ছোট ভাইয়ের স্কুলব্যাগ গুছিয়ে দেয়, ছোট বোনের চুল বেঁধে দেয়, পরীক্ষার আগে নোট বানিয়ে দেয়। অথচ নিজের কষ্টগুলো চুপচাপ নিজের কাছেই লুকিয়ে রাখে।
অনেকেই পরে বুঝতে পারেন, শৈশবে যে মানুষটিকে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত লাগত, বড় হওয়ার পর তাকেই সবচেয়ে বেশি মিস করেন।
আবার ছোট বোনের থাকে আরেক জগৎ। সে কখনো অনুমতি না নিয়েই আলমারি খুলে জামা পরে ফেলে। প্রিয় বইয়ে আঁকিবুঁকি করে দেয়। এছাড়া প্রিয় কোনো জিনিস লুকিয়ে রাখে। কিন্তু কেউ অসুস্থ হলে সেই ছোট বোনই সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠায় থাকে। চাকরি পেলে সে সবচেয়ে খুশি হয়। কষ্ট পেলে সবার অগোচরে সেই পাশে এসে বসে।
একসময় একই ঘরে থাকা ভাইবোনেরা আলাদা শহরে চলে যায়। কেউ চাকরির কারণে, কেউ সংসারের কারণে, কেউ দেশের বাইরে। প্রতিদিনের ঝগড়া বদলে যায় সপ্তাহে একবার ফোনে। কথা হয়তো মাত্র পাঁচ মিনিট। কিন্তু সেই পাঁচ মিনিটেই লুকিয়ে থাকে শৈশবের বিশ বছর। আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে এই ফোনগুলোই অনেক সময় সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখে।
তবে সব ভাইবোনের সম্পর্ক সব সময় সরলরৈখিক থাকে না। ভুল বোঝাবুঝি হয়। অহংকার আসে। বছরের পর বছর কথা বন্ধও থাকে।
কিন্তু বোন দিবস আমাদের একটা কথাই মনে করিয়ে দেয়, সম্পর্ক ভাঙতে সময় লাগে, রাগ থেকে দূরত্ব তৈরি হয়, তবে স্বাভাবিক হতে সময় লাগে না। হয়তো একটি ফোনকল। হয়তো একটি ছোট্ট বার্তা, ‘তোকে খুব মনে পড়ছে।’ অনেক সময় এই চারটি শব্দই বহু বছরের জমে থাকা অভিমানের বরফ গলিয়ে দিতে পারে।
ন্যাশনাল সিস্টার্স ডে বা বোন দিবস উদযাপন করতে খুব বড় আয়োজনের দরকার নেই। যদি বোন পাশে থাকে, একসঙ্গে বসে চা খান। পুরোনো অ্যালবাম খুলে দেখুন। ছোটবেলার কোনো স্মৃতি নিয়ে কথা বলুন।
যদি দূরে থাকে, একটি ফোন করুন। যদি অনেক দিন কথা না হয়ে থাকে, তাহলে আজই প্রথম বার্তাটি পাঠান। হয়তো লিখবেন, ‘কেমন আছিস?’ এই দুটি শব্দই একটি সম্পর্ককে আবার নতুন করে বাঁচিয়ে তুলতে পারে।
জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কগুলোর একটি হলো বোনের সম্পর্ক। এখানে ঝগড়া আছে, অভিমান আছে, কিন্তু সবকিছুর পেছনে থাকে নিঃশর্ত ভালোবাসা।
সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে যায়। বাড়ি বদলায়, শহর বদলায়, মানুষ বদলায়। কিন্তু শৈশবের সেই মানুষটি আর বদলায় না। তাই আজ সেই মানুষটিকে মনে করিয়ে দেওয়ার দিন, ‘তুই ছিলি বলেই আমার শৈশবটা এত সুন্দর ছিল।’

