অ্যাপলের নতুন আইফোন ঘিরে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহ যেন কখনোই কমে না। ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারে আসার পর থেকে প্রতিবছরই নতুন সংস্করণ উন্মোচন করেছে অ্যাপল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালেও আসছে বহুল প্রতীক্ষিত আইফোন ১৮ সিরিজ।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবু বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের তথ্য বলছে, এ বছর অ্যাপল শুধু নতুন আইফোন ১৮ সিরিজই নয়, তাদের প্রথম ভাঁজ করা (ফোল্ডেবল) আইফোনও উন্মোচন করতে পারে।
তাহলে আইফোন ১৮-তে নতুন কী থাকছে? দাম কত হতে পারে? আর ক্যামেরা, ডিসপ্লে ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সিরিতে কী পরিবর্তন আসছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরেই সেপ্টেম্বর মাসে নতুন আইফোন উন্মোচন করে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগ কিংবা অক্টোবরের শুরুতেই বাজারে আসবে নতুন আইফোন ১৮ সিরিজ।
এবারের আয়োজন আরও বিশেষ হতে পারে। কারণ, অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন টারনাস প্রথমবারের মতো নতুন আইফোন উন্মোচন করবেন।
আইফোনপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হতে পারে এর দাম।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে বিশ্বজুড়ে র্যাম চিপের চাহিদা বেড়েছে। ফলে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও গেমিং ডিভাইসের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।
বিদায়ী সিইও টিম কুক ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এবার আইফোনের দাম বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু মেমোরি চিপের খরচই আগের মডেলের তুলনায় প্রায় ১৫০ ডলার বেশি পড়ছে।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, অ্যাপল কেবল বাড়তি উৎপাদন খরচই যোগ করবে না, লাভের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখবে।
প্রযুক্তি সাময়িকী ম্যাশেবল জানিয়েছে, সে ক্ষেত্রে আইফোন ১৮ প্রোর সম্ভাব্য দাম হতে পারে প্রায় ১ হাজার ২৯৯ মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০০ ডলার বেশি।
এবারও তিনটি প্রচলিত মডেল আসার সম্ভাবনা আছে। আইফোন ১৮, আইফোন ১৮ প্রো, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স। এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন, যার সম্ভাব্য নাম আইফোন ফোল্ড অথবা আইফোন ফোল্ড আল্ট্রা।
প্রাথমিক তথ্য বলছে, এবার আইফোনের ডিজাইনে আমূল পরিবর্তন আসছে না। তবে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
সম্ভাব্য ডিসপ্লের আকার হবে আইফোন ১৮ ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চি, আইফোন ১৮ প্রো ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চি এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চি।
যদিও আকার প্রায় একই থাকছে, তবে ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা আগের যেকোনো আইফোনের চেয়ে বেশি হতে পারে।
এবারের আইফোনে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন হতে পারে ডায়নামিক আইল্যান্ড। খবরে বলা হচ্ছে, নোটিফিকেশন ও ক্যামেরার জন্য ব্যবহৃত পিল-আকৃতির অংশটি আগের তুলনায় আরও ছোট হতে পারে। বেস মডেলে ক্যামেরা বাম্পও কিছুটা ছোট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
আইফোন ১৮ প্রোর সম্ভাব্য রঙগুলো নিয়েও বেশ আলোচনা চলছে। গুঞ্জন অনুযায়ী রঙ হতে পারে—সিলভার, ধূসর, হালকা নীল, ডার্ক চেরি (গাঢ় লাল)। অর্থাৎ দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় কালো রঙটি এবারও নাও থাকতে পারে।
আইফোন ১৮ সিরিজে উল্লেখযোগ্য কিছু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আসতে পারে। সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যে আছে—সব মডেলেই ১২ জিবি র্যাম, নতুন এ২০ ও এ২০ প্রো প্রসেসর, আরও দ্রুতগতির সি২ মডেম, উন্নত ওয়াইফাইয়ের জন্য নতুন এ২ চিপ, স্যাটেলাইটভিত্তিক ৫জি সংযোগের সুবিধা।
আগের বছর বেস মডেলে ৮ জিবি র্যাম থাকলেও এবার সব মডেলেই সমান র্যাম দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।
আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সে ৫ হাজার এমএএইচের বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি আগের মডেলের তুলনায় দীর্ঘ সময় ব্যাটারি ব্যাকআপ দেবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আইফোন ১৮ প্রোর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে যাচ্ছে ক্যামেরায়। বিশেষ করে যুক্ত হতে পারে ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যামেরা প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেই আলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এর ফলে কম আলোতে আরও ভালো ছবি, ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার, আরও বাস্তবসম্মত পোর্ট্রেট, উন্নত ডিটেইল এবং রঙ পাওয়া যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আইফোন ক্যামেরার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হতে পারে।
আইফোন ১৮-এর সঙ্গে আসবে আইওএস ২৭। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে নতুন এআইচালিত সিরি। নতুন সিরি স্ক্রিনে কী দেখা যাচ্ছে তা বুঝতে পারবে, আরও স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নের উত্তর দেবে, বিভিন্ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে, গুগলের জেমিনাইয়ের কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।
তবে অ্যাপল পরিষ্কার করে জানিয়েছে, নতুন সিরি কখনোই মানুষের বন্ধু বা সঙ্গী হওয়ার চেষ্টা করবে না। বরং এটি কেবল একজন দক্ষ ডিজিটাল সহকারী হিসেবেই কাজ করবে।
এখন পর্যন্ত আইফোন ১৮ নিয়ে যত তথ্য প্রকাশ হয়েছে, তার বেশির ভাগই বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র, প্রযুক্তি বিশ্লেষক এবং ফাঁস হওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।
চূড়ান্ত সত্য জানা যাবে সেপ্টেম্বরে অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর।
তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, আইফোন ১৮ সিরিজে বড় ধরনের নকশাগত পরিবর্তন না এলেও ক্যামেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রসেসিং ক্ষমতা, ব্যাটারি এবং পারফরম্যান্সের দিক থেকে এটি হতে পারে অ্যাপলের অন্যতম শক্তিশালী স্মার্টফোন।
সূত্র: ম্যাশেবল, টেকক্রাঞ্চ

