অস্বস্তি নিয়েই নরওয়ের বিপক্ষে সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে নামছে ইংল্যান্ড

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় এক দুশ্চিন্তা ভর করেছে ইংল্যান্ড শিবিরে। হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালের এই মঞ্চে কার্ডের শৃঙ্খলাজনিত মারপ্যাঁচে ‘টাইটরোপে’ হাঁটতে হচ্ছে থ্রি লায়ন্সদের চার-চারজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে।

শনিবার (বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৩টা) মায়ামিতে শেষ চারের টিকিট কাটার লক্ষ্য নিয়ে নরওয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। গত তিন টুর্নামেন্টের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখার হাতছানি এখন তাদের সামনে।

শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মেক্সিকোকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে থমাস টুখেলের শিষ্যরা। তবে নরওয়ের বিরুদ্ধে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ইংলিশ কোচের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে বেশ কয়েকজন তারকার ওপর ঝুলতে থাকা নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া।

৩২ দলের পরিবর্তে এবারের বিশ্বকাপ হচ্ছে ৪৮ দল নিয়ে। ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ফিফা তাদের হলুদ কার্ডের নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, সেমিফাইনালের আগে যেকোনো দুই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখলেই এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হতো খেলোয়াড়দের। তবে ফিফার নতুন নিয়মানুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টে দুইবার হলুদ কার্ডের হিসাব ‘মুছে’ ফেলা বা মওকুফ করা হচ্ছে। প্রথমবার এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল গ্রুপ পর্ব শেষে, আর দ্বিতীয়বার দেওয়া হবে কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে।

আর এই নতুন নিয়মের কল্যাণেই নরওয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে বাধা নেই ডেক্লান রাইসের। গত সোমবার মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই এবারের বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি দেখেছিলেন আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার। কিন্তু ঘানার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে তিনি যে কার্ডটি দেখেছিলেন, গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ায় সেটি আগেই মওকুফ হয়ে যায়। ফলে মেক্সিকো ম্যাচের কার্ডটিই এখন তার একমাত্র কার্ড হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

রাইসের মতো একই সমীকরণের গোলকধাঁধায় আছেন জুড বেলিংহামও। শেষ ষোলোর ম্যাচে কঙ্গোর বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে জয়ের দিন হলুদ কার্ড দেখেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। ফলে রাইস ও বেলিংহাম—দুজনের সামনেই এখন একই বিপদ। নরওয়ের বিরুদ্ধে যদি তারা আরও একটি হলুদ কার্ড দেখেন এবং ইংল্যান্ড যদি সেমিফাইনালে ওঠে, তবে কার্ডের খড়্গে শেষ চারের মহারণ থেকে ছিটকে যাবেন এই দুই প্রাণভোমরা।

টুখেলের চিন্তার কারণ এখানেই শেষ নয়। তরুণ মিডফিল্ডার নিকো ও’রাইলিও এক হলুদ কার্ড নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে নামছেন। একই দশা রক্ষণভাগের বড় ভরসা মার্ক গুয়েহিরও। মেক্সিকো ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে রেফারি যে হলুদ কার্ডটি দেখিয়েছিলেন, তা অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে নয়, বরং এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারকেই দেওয়া হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে ফিফা।

তবে আরও একটি সমীকরণ ইংলিশ কোচের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ কিছুটা বদলে দিতে পারে। গুয়েহি এবং রাইস—দুজনেই নরওয়ে ম্যাচের আগে সম্পূর্ণ ফিট হয়ে ওঠার জন্য সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। ইনজুরি আর কার্ডের এই জোড়া শঙ্কায় শেষ পর্যন্ত টুখেল কী দল নামান, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

Related Articles

Latest Posts