অস্ট্রেলিয়ার দুই ভেন্যুর কন্ডিশন নিয়ে অন্ধকারে শান্ত

২৩ বছর আগে ডারউইনে মারেরা গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে প্রথম টেস্টে নেমেছিলো বাংলাদেশ। ওই ভেন্যুরও ছিলো সেটা প্রথম টেস্ট, এরপরের বছর সেখানে হয় আরেকটি টেস্ট। পরের ২২ বছরে কোন টেস্ট পায়নি ডারউইন। বাংলাদেশ সফরে যেতেই খুলেছে প্রায় অচেনা ভেন্যুটির দ্বার। দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকাওয়ের গ্রেট বেরিয়র রিফ অ্যারেনা তো অপেক্ষায় আছে টেস্ট অভিষেকের। এমন দুই ভেন্যুর কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ নয়। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানালেন, ভেন্যুতে যাওয়ার আগে অনেকটা অন্ধকারেই আছেন তারা। 

অস্ট্রেলিয়ার মূল টেস্ট ভেন্যু বছরের এই সময়টায় বন্ধই থাকে। বাংলাদেশের সফর বাণিজ্যিকভাবে লাভবান নয় বুঝেই সেসব ভেন্যুতে খেলা রাখেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্ন, সিডনি, অ্যাডিলেড বা ব্রিসবেনে না খেললেও উইকেট, কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা সহজেই পাওয়া যায়।

অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ ভেন্যুতে পেস, বাউন্স থাকবে নিশ্চিত। কিছু ভেন্যুতে স্পিনাররাও নেন বড় ভূমিকা। ডারউইন আর ম্যাকাওতে এবার কী হবে কে জানে!

অস্ট্রেলিয়ায় উড়াল দেওয়ার আগে বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে হাজির শান্তও জানালেন সুর্নিদিষ্ট কোন তথ্য নেই তাএর কাছে, ‘ভেরি অনেস্ট, ব বেশি অভিজ্ঞতা বা ধারণা নেই, তবে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছি। এনালিস্ট আমাদের কিছু তথ্য দিয়েছে, যা পাওয়া গেছে তা ভালো।’

ভেন্যুর জটিলতার পাশাপাশি প্রস্তুতিতেও যে ঘাটতি রয়ে গেছে, তা-ও লুকিয়ে রাখেননি টাইগার অধিনায়ক। দেশে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দল পূর্ণাঙ্গ আউটডোর প্রস্তুতি নিতে পারেনি। বিকল্প হিসেবে বোলিং মেশিনের সাহায্যে গ্রানাইট স্ল্যাবে বাউন্স সিমুলেট করে অনুশীলনের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

প্রস্তুতি প্রসঙ্গে অধিনায়ক জানান, ‘বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশে প্রিপারেশনটা ওভাবে ঠিকমতো প্লেয়াররা নিতে পারে নাই। যতটুকু সম্ভব হয়েছে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, আপনারা দেখেছেন গ্রানাইটের ওপর বোলিং মেশিনের সাহায্যে প্র্যাকটিস করা হয়েছে। তবে স্টিল বিলিভ করি যে প্রিপারেশনের জায়গায় একটু তো ঘাটতি ছিল।’

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর অজিদের কন্ডিশনে টেস্ট খেলতে নামার আগে পূর্বধারণার সীমাবদ্ধতাকে খুব বেশি প্রাধান্য দিতে চান না শান্ত। এত দূর থেকে কন্ডিশন অনুমান করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি জানান, মূল মাঠে পা রাখার পরেই দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন তারা, ‘কন্ডিশনটা আসলে এতদূর থেকে আইডিয়া করাটা কঠিন। কারণ আমরা শেষ কবে গিয়েছি আমার ঠিক মনে নাই, ২২-২৩ বছর আগে। কন্ডিশনটা ওখানে যাওয়ার পরেই আসলে এডাপ্ট করার চেষ্টা করব। যেরকম কন্ডিশন থাকুক, খেলোয়াড় হিসেবে বানায় নিতে হবে,’ যোগ করেন শান্ত।’

অচেনা ভেন্যু এবং ঘাটতি থাকা প্রস্তুতি নিয়ে সফর শুরু করলেও শান্ত ভরসা রাখছেন দলের ওপর। কন্ডিশন যতই নতুন হোক না কেন, নিজেদের প্রক্রিয়ায় ঠিক থেকে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য নিয়েই ক্যাঙ্গারুর দেশে পাড়ি জমাচ্ছে বাংলাদেশ দল।

 

Related Articles

Latest Posts