রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ এক মিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিলাসবহুল সুপারইয়ট চলমান অবরোধ সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুট হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ১৪২ মিটার দীর্ঘ বহু-ডেক বিশিষ্ট এই ইয়টটির নাম ‘নর্ড’, যা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ ধনকুবের অ্যালেক্সেই মোরদাশভের সঙ্গে যুক্ত। গত সপ্তাহান্তে এটি দুবাই থেকে ওমানের মাসকাটে যায়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খুব কম ব্যক্তিগত জাহাজই এই প্রণালি পাড়ি দিয়েছে।
এই সপ্তাহে ইরান রাশিয়ার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে, যখন প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
মোরদাশভ আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়টটির মালিক হিসেবে তালিকাভুক্ত নন। তবে রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২২ সালে এটি তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত হয়।
মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের নর্ড শুক্রবার রাতে দুবাই ত্যাগ করে এবং রোববার সকালে ওমানের রাজধানীর আল মউজ মেরিনায় পৌঁছায়।
ট্র্যাকার অনুযায়ী, জাহাজটি এমন একটি রুট ব্যবহার করেছে যা ইরানের অনুমোদনে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে নর্ড ইরানের কাছ থেকে সরাসরি অনুমতি পেয়েছিল কি না তা নিশ্চিত নয়।
মোরদাশভ তার সম্পদের বেশিরভাগই গড়ে তুলেছেন ইস্পাত ও খনি কোম্পানি সিভারস্টলের মাধ্যমে, যা রাশিয়ার বৃহত্তম প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ফোর্বস অনুযায়ী সবচেয়ে ধনী রুশ নাগরিক।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। চলতি মাসের শুরুতে তেহরান সতর্ক করে যে, প্রণালিটির কাছাকাছি আসা যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে আসা জাহাজগুলোকে তারা আটক বা ফেরত পাঠাবে।
বর্তমানে উপসাগরীয় এই জলপথে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে; সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারে পৌঁছায়।
সুপারইয়ট টাইমস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, নর্ডে একটি সুইমিং পুল, সাবমেরিন এবং হেলিপ্যাড রয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর মোরদাশভ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন।
Pleased to engage with Russia at the highest level as the region is in major flux.
Recent events have evidenced the depth and strength of our strategic partnership. As our relationship continues to grow, we are grateful for solidarity and welcome Russia’s support for diplomacy. pic.twitter.com/I1VyDSfxET
— Seyed Abbas Araghchi (@araghchi) April 28, 2026
এর আগে পশ্চিমা দেশগুলোর আহ্বান সত্ত্বেও হংকং ও মালদ্বীপ নর্ডকে জব্দ করেনি। তবে ২০২২ সালের মার্চে তার ছোট একটি ইয়ট ‘লেডি এম’ ইতালির ইম্পেরিয়া বন্দরে জব্দ করা হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে রুশ ধনকুবেরদের অনেক ইয়ট আটক বা প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব ইয়ট এখন মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মতো অঞ্চলগুলোতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তুলনামূলক কম।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনা স্থবির থাকলেও, তেহরান বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দিচ্ছে।
সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিন ইরানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দুই দেশের ‘কৌশলগত সম্পর্কের’ প্রশংসা করেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের মুখেও ইরানি জনগণ তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ‘সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করছে’।
আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পুতিন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে করমর্দনের ছবি শেয়ার করেন এবং লেখেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের গভীরতা ও শক্তি প্রমাণ করেছে। আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা এই সংহতির জন্য কৃতজ্ঞ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রাশিয়ার সমর্থনকে স্বাগত জানাই।’

