ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংগঠন।
আজ বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ জন সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে।
একইসঙ্গে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির শাসকগোষ্ঠীর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এই সংকট ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। রয়টার্সের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের সঙ্গে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে তেহরান।
ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ট্রাম্প হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে, এর সময় ও পরিধি স্পষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভাকেও ইরানের পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে, তবে তিনি ‘শক্ত পদক্ষেপ’ নেবেন। তিনি ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সহায়তা আসছে।’
ইরানি কর্তৃপক্ষ অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দেশটি যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ থেকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ইরান থেকে তথ্য প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এসব তথ্য স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভবও নয়।

