কোহলির একশোটা সেঞ্চুরির ‘খুব ভালো সম্ভাবনা’ দেখছেন গাভাস্কার

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুই সেঞ্চুরি, আরেকটি অপরাজিত ফিফটি। বিরাট কোহলি যেন ফিরিয়ে আনলেন তার পুরনো দিন। ক্যারিয়ারের গোধূলি বেলায় দেখালেন এখনো অনেকটা খেলা রয়ে গেছে তার মাঝে। তিন ইনিংসে ৩০২ রান, দেড়শোর বেশি গড়, একশো ছাড়ানো স্ট্রাইকরেট। ৩৭ পেরিয়েও কোহলিই সিরিজ সেরা। বাকি দুই সংস্করণ ছেড়ে দেওয়া ব্যাটিং জিনিয়াস কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একশো সেঞ্চুরি করতে পারবেন, এই প্রশ্ন এখন বড়। তবে আরেক ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভস্কার বেশ ভালো সম্ভাবনা দেখছেন।

এখন কোহলির আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি সংখ্যা ৮৪, তার মধ্যে ৫৩টি ওয়ানডেতে। এই ফরম্যাটের যেন রাজা তিনি। গত বছর বিশ্বকাপ জিতে টি-টোয়েন্টি ছেড়েছেন, টেস্ট ছেড়ে দিয়েছেন কিছটা যেন অতৃপ্তি নিয়ে। একটাই সংস্করণ খেলায় একশো সেঞ্চুরি কিছুটা সংশয়। টেস্ট অন্তত দুই বছর চালিয়ে গেলে অনায়াসে শচীন টেন্টুলকারের পর এই মাইলফলকে পৌঁছা দ্বিতীয় ব্যক্তি হতে পারতেন। তবে অনেকের মতে ম্যাজিকাল মাইলফলকের কাছাকাছি যাওয়ারও সম্ভাবনা তার জোরালো।

এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ এবং ক্যারিয়ারের বাকি সময়টায় কোহলির এমন ফর্ম ধরে রাখা লাগবে। কিন্তু এটা অর্জন করা সম্ভব বলেই মনে করেন ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার।

জিওহটস্টারে কথা বলতে গিয়ে গাভাস্কার বলেছেন, সময় পেলে কোহলি অবশ্যই শচীন টেন্ডুলকারের অসাধারণ রেকর্ড ছুঁতে পারেন, ‘কেন নয়? আরও তিন বছর খেললেই তো তাকে ১৬টা সেঞ্চুরি লাগবে।’

সরাসরি সম্প্রচারে গাভাস্কার  বলেন, ‘যেভাবে তিনি ব্যাট করছেন—তিন ম্যাচের সিরিজে দুইটা সেঞ্চুরি। সামনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে আরও দুইটা করলেও ৮৭ হবে। তাই তার ১০০ সেঞ্চুরি পাওয়া খুবই সম্ভব, খুব ভালো সম্ভাবনা।’

আরেক ভারতীয় সাবেক তারকা জহির খান ক্রিকবাজের আলোচনায় গিয়ে বলেন, ‘এটা করতে হলে তাকে অসম্ভব ধারাবাহিক থাকতে হবে আরও টানা দুই বছর, যেটা সহজ নয়। যদিও তার ফিটনেস এখনো দারুণ।’ জহির কোহলির টেস্টে ফিরে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিতে চান না, ‘বলা যায় না যদি সে ভাবে টেস্টে ফিরে আসবে। তাহলে তো অবশ্যই সম্ভব। টেস্টেও তার দশ হাজার রান বেশি দূরে ছিলো না।’

কোহলি যেন দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দিলেন দশ বছর আগের সেই নিজের রূপটাকে—যেখানে ইনিংসের শুরু থেকেই বিধ্বংসী ব্যাটিং, বাউন্ডারি-ছক্কার ঝড় তুলে প্রতিপক্ষকে বিপর্যস্ত করতেন, এরপর নিজের ছন্দে গোটা ইনিংস গড়তেন। রাঁচি আর রায়পুরে সেঞ্চুরি করার পর, বিশাখাপত্তমে কোহলিকে মনে হলো আরও ধারালো—৬৫* রানের ইনিংসে তিনটি ছক্কা ও ছয়টি চার মেরে ভারতকে জেতান। গাভাস্কারের মতে, ‘আজ (শনিবার) তিনি যেভাবে ব্যাট করলেন—জানতেন ম্যাচ প্রায় ভারতের হাতেই। ওপেনাররা ভালো ভিত্তি তৈরি করেছে এবং ইনফর্ম ব্যাটাররা এরপর আসবে, তাই তিনি মাঝখানে দারুণ উপভোগ করেছেন। খুব কমই আমরা এই ভার্সনের কোহলিকে—টি-টোয়েন্টি ধাঁচের কোহলিকে—ওয়ানডেতে দেখেছি।’

পরের ওয়ানডে সিরিজের জন্য মাসখানেক অপেক্ষা করতে হবে কোহলিকে। জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবে ভারত। এরপর লম্বা বিরতি পাবেন ব্যাটিং মাস্টার।

Related Articles

Latest Posts