বাংলাদেশে চার দিনের সফরে এসে এখানকার জেন্ডার সমতা ও নারীর অধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব নিয়ারাদজাই গুম্বোনজভান্ডা। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা, নারী অধিকার সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং তৃণমূল পর্যায়ে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
সফরের শেষ দিনে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাল্যবিয়ে, যৌন হয়রানি, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশে নারীর অধিকার ও জেন্ডার সমতার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন ইউএন উইমেনের এই উপনির্বাহী পরিচালক। এই আলোচনায় অংশ নিয়ে আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ইউএন উইমেনের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক ক্রিস্টিন আরব।
ক্রিস্টিন আরব: গত বছর বেইজিং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়। এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচিত। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে নারীদের প্রতি বৈষম্য কমেছে, বিশেষ করে সংবিধান ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে। একইসঙ্গে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় সেবা ও শ্রমবাজারে আরও বেশি নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগও বেড়েছে।
তবে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ এবং রাজনীতি ও বেসরকারি খাতে নেতৃত্বের অগ্রগতি এখনো যথেষ্ট নয়, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো নারী সহিংসতা সংশ্লিষ্ট অপরাধের হার বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
গত পাঁচ বছরে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব বিষয়ে সরকারগুলো প্রতিনিয়ত ইউএন উইমেনের সহায়তা চাইছে। তবে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা এখনো উদ্বেগজনকভাবে বেশি এবং বাল্যবিয়ের মতো ক্ষতিকর চর্চা দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
এক দশকেরও বেশি সময় পর গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ইউএন উইমেন ও সার্ক ‘কেয়ার ইকোনমি’ নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বৈঠক আয়োজন করে। বর্তমানে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সরকারগুলো যে বিষয়গুলোতে ইউএন উইমেনের সহায়তা সবচেয়ে বেশি চাইছে, এটি তার অন্যতম। আরেকটি বড় উদ্বেগের জায়গা হলো সাইবার নিরাপত্তা, বিশেষ করে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নারীর বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ।
দ্য ডেইলি স্টার: বাংলাদেশে স্বাগতম। এই সফরে আপনার মূল উপলব্ধিগুলো কী এবং বাংলাদেশে জেন্ডার সমতা এগিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ কোথায়?
নিয়ারাদজাই গুম্বোনজভান্ডা: অনেক ধন্যবাদ। প্রথমেই আমি আপনাদের এবং গণমাধ্যমের প্রশংসা করতে চাই। ১৯৯৫ সালের বেইজিং সম্মেলনে চিহ্নিত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের একটি ছিল নারী ও গণমাধ্যম এবং জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর অধিকার এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা।
আমরা আঞ্চলিক পরিচালককে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি সরকার ও সুশীল সমাজের সঙ্গে মিলে ইউএন উইমেনের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে। এখানে এসে আমি তাৎক্ষণিকভাবে যা অনুভব করেছি তা হলো, ইউএন উইমেন দেশের বৃহত্তর সামাজিক কাঠামো ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এর মাধ্যমে নির্বাচন-পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে দেশের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। নারীর অধিকার অগ্রগতিতে সিডও-সহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সনদ সই ও অনুসমর্থনের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তবে এটাও স্বীকার করতে হবে, এখনো অনেক কাজ বাকি।
বাংলাদেশের নীতিমালা শক্তিশালী। তবে মূল সমস্যা বাস্তবায়নে। নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের প্রতিনিধিত্বও এখনো সন্তোষজনক নয়, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি নির্বাচিত নারীর সংখ্যার ক্ষেত্রে। রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বলতে শুধু প্রার্থী হওয়া নয়, ভোটার ও নির্বাচন পরিচালনায় অংশগ্রহণও অন্তর্ভুক্ত।
আমরা নারী অধিকার সংগঠন, বৃহত্তর সুশীল সমাজ, তরুণী, প্রতিবন্ধী নারী এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নারীদের সঙ্গেও বিস্তর আলোচনা করেছি। জেন্ডার বৈষম্য কমাতে, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত ও নারীর অধিকার রক্ষা করতে হলে নীতির বাস্তবায়ন, সেবার প্রাপ্যতা এবং সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাল্যবিবাহের হারও অগ্রহণযোগ্য। আমি মনে করি, এটা শিশুধর্ষণ।
আমরা কক্সবাজারেও গিয়েছিলাম। সেখানে যা দেখেছি, তাতে অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি। তবে অন্যদিক থেকে ভাবলে কিছুটা খুশিও হয়েছি। রোহিঙ্গা নারীরা শান্তি চায় এবং নিজ দেশে ফিরতে চায়। একইসঙ্গে তারা এখন যেখানে আছে, সেখানেও নিরাপদে থাকতে চায়। তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, সন্তানদের জন্যও শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ চায়।
কিন্তু কেন আমি কিছুটা খুশি হয়েছি? কারণ আমি শরণার্থী নারীদের সাহস দেখেছি—তারা একতাবদ্ধ থেকে সমাধান খুঁজছে, নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলছে, নারীগোষ্ঠী তৈরি করছে এবং একে অপরকে সহায়তা করছে।
তা ছাড়া, আমি অবশ্যই বাংলাদেশের চমৎকার খাবারের কথা বলব। প্রতি প্লেট ভাতের পেছনেই একজন নারীর অবদান রয়েছে। নারী কৃষকরাই আমাদের প্রতিদিনের পুষ্টির জোগানদাতা।
ডেইলি স্টার: আপনি বাস্তবায়ন ও সেবা প্রাপ্যতার ঘাটতির কথা বলেছেন। আর কোন কোন ক্ষেত্রে ঘাটতি ও অমীমাংসিত চ্যালেঞ্জ আছে, যেগুলোর প্রতি জরুরিভিত্তিতে মনোযোগ দেওয়া দরকার বলে মনে করেন?
নিয়ারাদজাই গুম্বোনজভান্ডা: সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে সাহসের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। নেতিবাচক সামাজিক মানসিকতা নারীদের সীমাবদ্ধ করে এবং নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে রাখে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই মানসিকতার পরিবর্তন। ‘ভালোবাসা নিপীড়নমূলক নয়, এটি মুক্তির পথ’।
যখন আমরা সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তনের কথা বলি, তখন আমরা বলি না যে মানুষকে তাদের ধর্ম বা সংস্কৃতি ত্যাগ করতে হবে। তবে সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাকে নারীদের দমন বা তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ন্যায্যতা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। শিশু ধর্ষণকে বিয়ে বলে বৈধতা দেওয়া যাবে না।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কমিউনিটি পর্যায়ে সেবার প্রাপ্যতা। সমান সুযোগ নিশ্চিত করে এমন শিক্ষানীতি থাকা এক বিষয়, আর স্কুলগুলোর অবস্থান কাছাকাছি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা আরেক বিষয়, যাতে মেয়েদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে না হয় এবং পথে হয়রানি বা নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়তে না হয়। সেবাগুলো হতে হবে সহজপ্রাপ্য, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দায়মুক্তির প্রতি শূন্য সহনশীলতা। যেখানে দায়মুক্তি থাকে, সেখানে নির্যাতন চলতেই থাকে।
ক্রিস্টিন আরব: আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিচর্যা। এটি জনকল্যাণমূলক বিষয়। দক্ষিণ এশিয়ায় মানুষ সাধারণত শিশু পরিচর্যার কথাই আগে ভাবে। কিন্তু পরিচর্যার মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত।
সরকারগুলো এখন আরও শক্তিশালী পরিচর্যা নীতি চায় এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এখানে অত্যন্ত জরুরি। এটি বিশাল নতুন বাজেটের বিষয় নয়; বরং বিদ্যমান ব্যবস্থা ও সম্পদকে আরও যথাযথভাবে সমন্বয় করার বিষয়। একজন মানুষের পুরো জীবনজুড়ে পরিচর্যার বিষয়টি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত, আর বেসরকারি খাতেরও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এই আলোচনার মধ্যে গৃহকর্মীদের বিষয়টিও জড়িত। দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে অনেক গৃহকর্মীই অভিবাসী—হোক তা দেশের ভেতরে কিংবা সীমান্ত পেরিয়ে। তাই গৃহকর্মকে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।
ডেইলি স্টার: অগ্রাধিকারমূলক কোন ক্ষেত্রগুলো বাংলাদেশে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের অগ্রগতিকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে ত্বরান্বিত করতে পারে?
নিয়ারাদজাই গুম্বোনজভান্ডা: প্রথমত, সরকারের সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নকে যদি সুশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হয়, তাহলে সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং পর্যাপ্ত সম্পদ বরাদ্দ অপরিহার্য।
দ্বিতীয়ত, কমিউনিটি পর্যায়ে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। নারীরা জমির মালিকানা চায়, দক্ষতা অর্জন করতে চায় এবং আয়ের পথে বাধাগুলো অতিক্রম করতে চায়।
তৃতীয়ত, নারী সংগঠন ও নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা। বাংলাদেশে কমিউনিটিভিত্তিক অনেক মডেল গড়ে ওঠার গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে, যা পরে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। কক্সবাজারে আমরা বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক একটি মডেল দেখেছি—রোহিঙ্গা নারী শরণার্থীদের জন্য সমন্বিত বহুমুখী নারী কেন্দ্র। এ ধরনের সমন্বিত ‘ওয়ান-স্টপ’ কেন্দ্র সারা বাংলাদেশে গড়ে তোলা যেতে পারে।
সবশেষে, নগরায়ণ ব্যবস্থা নিজ থেকে সমান সুযোগ সৃষ্টি করে না। বাংলাদেশকে নিশ্চিত করতে হবে যেন সব নারী ও কন্যাশিশু নিরাপদে বসবাস, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং নিজেদের সম্ভাবনা পুরোপুরিভাবে বিকাশের সুযোগ পায়।
ক্রিস্টিন আরব: আমি পরিসংখ্যানের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেবো। জেন্ডার-সম্পর্কিত তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, যা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে বিভিন্ন অঞ্চল ও খাতের নারীরা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের দ্বারা কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছেন।
আমাদের বৈঠকগুলোতে আরেকটি বিষয় বারবার উঠে এসেছে—উত্তরাধিকার ও জমির অধিকার। নারীরা জমিতে কাজ করেন, চাষ করেন, ফসল ফলান। কিন্তু প্রায়ই সেই জমির মালিকানা তাদের থাকে না।
ডেইলি স্টার: জুলাই অভ্যুত্থানের পর ধারণা করা হয়েছিল, নারীরা আবারও সামনের সারিতে থাকবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেখা গেছে, আন্দোলনে যে সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ ছিল, সংসদে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব শক্তিশালী করতে কী ধরনের সহায়ক পরিবেশ ও সংস্কার প্রয়োজন?
নিয়ারাদজাই গুম্বোনজভান্ডা: প্রথমত, রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে নির্বাচনী আইনের মাধ্যমে এবং সেই আইনি ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ সক্রিয়ভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও সংস্কার প্রয়োজন। নির্বাচনী প্রচারণার অর্থায়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ব্যয়বহুল, তাই সমভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নারীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন।
সংরক্ষিত আসন ও সরাসরি নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে জাতীয়ভাবে বিতর্ক রয়েছে। জাতিসংঘের দৃষ্টিকোণ থেকে—দুটিই প্রয়োজনীয়।
তরুণীদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তারাই প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার শিকার হচ্ছে বেশি। এক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বহুমাত্রিক উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু আইনি সংস্কারই যথেষ্ট নয়।
ক্রিস্টিন আরব: এ কারণেই আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কমিউনিটিনির্ভর বহু-দলীয় সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক তরুণ নারী নেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি এবং এটা স্পষ্ট যে তাদের মধ্যে আরও শক্তিশালী কণ্ঠস্বর প্রয়োজন।
ডেইলি স্টার: নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্র ও জনপরিসরকে আরও নিরাপদ করতে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সুরক্ষা কীভাবে জোরদার করা যেতে পারে?
নিয়ারাদজাই গুম্বোনজভান্ডা: নারীরা জনপরিসরে বারবার হয়রানির শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা আমাদের জানিয়েছেন। এখন যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন পাস করতেই হবে, যদিও ইতোমধ্যে দেরি হয়ে গেছে। এ ধরনের আইন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন ১৯০-এর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে, যা কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানির বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে।
তবে শুধু আইন করলেই হবে না। বেসরকারি খাতেরও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিষয়টি মূলত মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই মর্যাদা হলো জনপরিসরে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারা। কেননা নারীরা যখন হয়রানির শিকার হন, তখন জনজীবনে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশকে জরুরিভাবে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং নারীরা যেন নির্ভয়ে বসবাস, কাজ ও সবকিছুতে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ডেইলি স্টার: কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার অনেক ভুক্তভোগী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যেখানে কর্মস্থল হতে পারে কারও বাড়ি—যেমন গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে। এ ধরনের পরিবেশে নারীদের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা যেতে পারে?
নিয়ারাদজাই গুম্বোনজভান্ডা: অনেক নারী চাকরি হারানোর ভয়ে নীরব থাকেন। এ কারণেই সচেতনতামূলক প্রচারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের পুনরায় ভুক্তভোগীতে পরিণত হওয়া থেকেও সুরক্ষা দিতে হবে এবং তাদের জন্য কার্যকর বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
এটাও বুঝতে হবে যে অনানুষ্ঠানিক খাত কোনো বিচ্ছিন্ন ক্ষেত্র নয়। যদিও এটি সব সময় আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত নয়। তাই উন্নয়নমূলক উদ্যোগে বাজার সমিতি, পরিবহন সংগঠন, আবাসন সমিতি এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে অনানুষ্ঠানিক খাতেও যৌন হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। মূল বিষয় হলো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৌশল নির্ধারণ করা এবং একইসঙ্গে জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার অটুট রাখা।

