শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়াই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা টাইগারদের মূল লক্ষ্য।
পাশাপাশি একটি ইতিহাস গড়ার হাতছানিও থাকছে তাদের সামনে। কারণ, এর আগে কোনোবারই দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে কিউইদের বিপক্ষে একের অধিক সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টায়।
শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইতোমধ্যে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সেই আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করেই টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নেয় লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল। তবে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় ম্যাচটি একটি বলও মাঠে না গড়িয়ে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।
একই ভেন্যুতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের জয়ের মূল ভিত্তি ছিল মিডল অর্ডারের কার্যকর অথচ আগ্রাসী ব্যাটিং। তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন ও পারভেজ হোসেন ইমন মিলে প্রয়োজনীয় রানের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঝড়ো জুটি গড়ে তোলেন, যার সুবাদে দুই ওভার হাতে রেখেই ১৮৩ রানের লক্ষ্য স্পর্শ করে স্বাগতিকরা। ঠিক সময়ে রানের গতি বাড়ানোর যে সামর্থ্য তারা দেখিয়েছেন, তা এই সংস্করণে বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা নিয়ে জমে থাকা দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও দূর করেছে।
তবে উন্নতির এখনও বেশ কিছু জায়গা রয়েছে। বিশেষ করে, সেই ম্যাচে ধীরগতির শুরুর কারণে ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম বেশ নজরদারিতে থাকবেন। দুই ব্যাটারই শুরুতে আক্রমণাত্মক হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও পাওয়ার প্লেতে রানের গতি ধরে রাখতে সংগ্রাম করেছেন। তারা প্রচুর ডট বল খেলায় মিডল অর্ডারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল।
এবারের ম্যাচের ভেন্যু মিরপুরের কন্ডিশন নতুন একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে পারে। বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন ধরে উইকেট কভারে ঢাকা থাকায় শুরুর দিকের স্যাঁতসেঁতে ভাব পেসারদের সহায়তা করতে পারে। যদিও সময় গড়ানোর সাথে সাথে মিরপুরের উইকেট সাধারণত স্পিনারদেরই বেশি সাহায্য করে থাকে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, এই ম্যাচেও বৃষ্টির বাগড়া দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচটিতে বেশ ভালো কিছু করারই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল নিউজিল্যান্ড। কারণ, প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৮৮ রানের জুটিতে কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লেভার দ্রুতগতির হাফ সেঞ্চুরি করে মুগ্ধ করেছেন। ইনিংসের শেষদিকে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসন ঝড়ো ইনিংস খেলে রানের চাকা সচল রাখেন। কিন্তু তাদের মিডল অর্ডারের বাকিরা ব্যর্থ হওয়ায় আশা জাগিয়েও ২০০ রানের পুঁজি গড়া থেকে বঞ্চিত হয় দলটি।
দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে আসা সফরকারীদের বোলিংয়েও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। চাপের মুখে তাদের অনভিজ্ঞতা বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল এবং বাঁহাতি স্পিনার জেইডেন লেনক্সের অনুপস্থিতি তাদেরকে কৌশলগত দিক থেকে পিছিয়ে দিতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে ইশ সোধি এখনও কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৬৪ উইকেট নিয়ে বর্তমানে টিম সাউদির সাথে যৌথভাবে টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। প্রথম ম্যাচে বেশ খরচে বোলিং করলেও মিরপুরের স্পিনবান্ধব উইকেটে লেগ স্পিনার সোধি নিজের সেরাটা মেলে ধরতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

