ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শুক্রবার ভোরে পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্যাসফিল্ড সংলগ্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার স্বপন কুমার রায় (৪৮) নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ‘উৎসব ফার্মেসী’ নামে একটি দোকানের স্বত্বাধিকারী।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) শচীন চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সরাইল থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তের সময় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বরাত দিয়ে এসপি শচীন বলেন, ‘অভিযুক্তরা সুপরিকল্পিতভাবে বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে টাকা নেয়। একপর্যায়ে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তারা সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।’
পিবিআই জানায়, মামলার বাদীকে অস্ট্রেলিয়ার কথিত দুটি মোবাইল নম্বর থেকে যোগাযোগ করে একটি চক্র উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখায়। গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাদী ও তার আত্মীয়-স্বজনের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বর থেকে মোট ৬০ লাখ টাকা একাধিক কিস্তিতে আদায় করা হয়। টাকা নেওয়ার পর প্রতারকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে ভুক্তভোগী বিষয়টি বুঝতে পারেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার স্বপন কুমার রায় এই প্রতারণা চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। তিনি পরিচিত কয়েকজন ব্যবসায়ী ও শিক্ষকের নামে তিনটি বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলেন। সংশ্লিষ্ট সিমগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে টাকা গ্রহণ করতেন।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব অ্যাকাউন্টে অন্তত ২৯ লাখ ৩২ হাজার ১৪১ টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি ও তার সহযোগীরা পরে ওই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনায় তার এক সহযোগী জাবেদুল ইসলাম পলাতক আছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
আদালতে উপস্থাপনের পর স্বপন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান এসপি শচীন।
তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

