বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন পরিকল্পনার কথা জানাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এমন খবর আসার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার অচলাবস্থা কাটাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড একটি নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এতে ইরানের ওপর অল্প সময়ের মধ্যে জোরদার হামলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানায়নি।

এই খবরের পর অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর এটিই তেলের সর্বোচ্চ দাম।

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চলতি সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে।

অ্যাক্সিওস তাদের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই দফায় ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও একটি পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। সেটি হলো হরমুজ প্রণালির কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পথটি আবার খুলে দেওয়া যায়। তবে এই পদক্ষেপে মার্কিন স্থলবাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও তেলের দাম বেড়েছে। সেখানে দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্র আগেই জানিয়েছিল, তেহরান যত দিন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে, তত দিন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ চলবে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরের জেরে গতকাল বুধবারও তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছিল।

Related Articles

Latest Posts