মাওয়ের চীন থেকে আধুনিক মেগাসিটি: আইরিশ ফুটবলারদের ইতিহাস ছোঁয়ার সফর

১৯৭৬ সাল। মাও সেতুং-এর চীন তখনো বহির্বিশ্বের কাছে এক রহস্য। সেই বছর ১৮ বছরের এক তরুণ প্যাডি ডয়ার তার দল নিয়ে পা রেখেছিলেন বেইজিংয়ে। তারা ছিলেন চীন সফর করা প্রথম কোনো পশ্চিমা ফুটবল দল। দীর্ঘ ৫০ বছর পর সেই ঐতিহাসিক সফরের স্মৃতি হাতড়ে আবারও চীনে ফিরেছেন ডয়ার ও তার সতীর্থরা।

আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের সেই ফুটবল দলের ১৮ জন সদস্য এই সপ্তাহে চীনে এসেছেন তাদের সফরের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে। ডয়ারের স্মৃতিতে আজও অমলিন সেই দিনগুলো। এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের একঝলক দেখার জন্য বাসের দুই পাশে মানুষের ভিড় জমে যেত। তারা জীবনে প্রথমবার কোনো শ্বেতাঙ্গ মানুষকে দেখার কৌতূহল সামলাতে পারছিল না।’

সে সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে ডয়ার জানান, রাস্তাঘাট ছিল সাইকেলে ঠাসা, মোটরগাড়ি খুব একটা চোখে পড়ত না। চীন তখন সাংস্কৃতিক বিপ্লবের রেশ কাটিয়ে এক বিশাল অর্থনৈতিক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

এই সফরটি কেবল ফুটবলীয় ছিল না, বরং এটি ছিল এক বড় ইতিহাসের সাক্ষী। ১৯৭৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর যখন দলটির বেইজিংয়ে ১ লাখ দর্শকের সামনে খেলার কথা, ঠিক তখনই খবর আসে চেয়ারম্যান মাও সেতুং মারা গেছেন। ডয়ার বলেন, ‘আমরা তখন সাংহাইয়ের একটি বাগানে ছিলাম। আমাদের প্রেসিডেন্ট ডেভিড অ্যান্ড্রুস যখন আইরিশ ভাষায় খবরটি দিলেন, মুহূর্তেই পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।’ সেই শোকের কারণে তাদের ম্যাচটি বাতিল করা হয় এবং পরে তারা হুনান প্রদেশে মাওয়ের জন্মস্থানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

৫০ বছর পর ফিরে এসে ডয়ার চীনের আধুনিক রূপ দেখে বিস্মিত। আকাশচুম্বী ভবন, উন্নত হাইওয়ে আর পরিচ্ছন্নতা দেখে তিনি বলেন, ‘পার্থক্যটা অবিশ্বাস্য।’ এখন আর তাদের দেখে কেউ ভিড় জমায় না, কারণ চীনে এখন অনেক পশ্চিমা মানুষের আনাগোনা।

পুরনো প্রতিপক্ষদের সঙ্গে এবার দেখা হয়েছে ডয়ারদের। সাংহাই স্টেডিয়ামে সেই ফুটবলারদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন তারা। ডয়ার মজা করে বলেন, ‘আমার মনে হয় তারা আমাদের চেয়ে এখনো বেশি ফিট। এখন খেলা হলেও হয়তো আমরাই হারব।’

নিজেদের এই সফর নিয়ে ডয়ারের কণ্ঠে ঝরল আবেগ, ‘তখন আমরা কেবল ফুটবল খেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝতে পেরেছি আমরা কতটা বড় ইতিহাসের অংশ ছিলাম। আমাদের দেশে এখনো লোকে জিজ্ঞেস করে— তোমরাই কি সেই দল যারা ৭৬ সালে চীন গিয়েছিলে?’

ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ডয়ার চান আয়ারল্যান্ড ও চীন দুই দেশই যেন একদিন ফুটবল বিশ্বকাপে একে অপরের মুখোমুখি হয়।

 

 

Related Articles

Latest Posts