ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইরাকে পাঠানো তেল বিক্রির প্রায় ৫০ কোটি ডলারের নগদ চালান আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকনোট বহনকারী একটি উড়োজাহাজকে ইরাকে অর্থ সরবরাহ করতে বাধা দেয় ওয়াশিংটন। এটি বাগদাদের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন ও ইরাকি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ থেকে এই নগদ চালান আসার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সেটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আগ্রাসনের মাধ্যমে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর গড়ে ওঠা একটি ব্যবস্থার আওতায় ইরাকের তেল রপ্তানির আয়ের বড় অংশ নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত থাকে। ফলে দেশটির আর্থিক প্রবাহে ওয়াশিংটনের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি, তবে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি এ বিষয়ে কিছু না বললেও মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশে মার্কিন ডলারের কোনো ঘাটতি নেই। হজযাত্রী, ভ্রমণকারী ও বৈদেশিক লেনদেনের জন্য ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর সব চাহিদা পূরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরাকে নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থায়নও স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ইরাকি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী কার্যক্রমও রয়েছে। ২০১৪ সালে আইএসের উত্থানের পর থেকে এই সহযোগিতা দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল।
এক জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি শনিবার বাগদাদে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এর আগে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখার কথা জানায়। তবে তার আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা হয়।
এএফপি জানায়, ইরাক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রভাবের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা সেই ভারসাম্যকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
এক ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, মার্কিন স্বার্থে হামলা চালানো গোষ্ঠীগুলোর কারণে ওয়াশিংটন ইরাকের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

