‘যুদ্ধে নামলে গুলি খেতে হয়’, তবে…

বোলিং মার্কে যাওয়ার পথে আলতো করে ঘাড় নাড়া দেন নাহিদ রানা। উইকেট পেলে কখনো স্রেফ মৃদু হাসিতে সারেন উদযাপন, কখনো আবার মেতে ওঠেন বুনো উল্লাসে। চেহারায় সারল্য মাখা এই নাহিদের বলে প্রবল তেজ। সোমবার বৈশাখের তপ্ত দুপুরের উত্তাপের চেয়েও প্রতিপক্ষকেও যেন বেশি পুড়িয়েছে নাহিদের পেসের ঝাঁজ। প্রতিকূল কন্ডিশনে যিনি সামর্থ্যের সবটুকু ঢেলে দেন, তার শরীরের ওপর দিয়েও তো ধকল যায়। নাহিদ অবশ্য চোটের শঙ্কা নিয়ে বড় নির্ভার। তার সেই পুরনো মন্ত্র, ‘যুদ্ধে নামলে গুলি খেতে হবে।’

সিরিজে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ ১-১ সমতায় ফিরল মূলত নাহিদের হাত ধরেই। গতি আর বাউন্সে কিউইদের নাকাল করে ৩২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। এমন খরতাপে কোনো পেসারের এমন আগুনে স্পেল দেখে সফরকারী দলও রীতিমতো বিস্মিত।

গতি আর দক্ষতার মিশেলে নাহিদ বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক বিরল রত্ন। তবে এই রত্ন অতি ব্যবহারে অকেজো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। রত্নকে যত্ন করে ঠিক সময়ে ব্যবহার করাই হবে আসল মুন্সিয়ানা। বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভুল ব্যবহারের কারণে আক্ষেপের ইতিহাস বেশ পুরনো। মাশরাফি বিন মর্তুজার কথাই ধরা যাক; চোটের কারণে যার কাছ থেকে শতভাগ সেবা পায়নি বাংলাদেশ।

নাহিদের ক্ষেত্রেও তেমন শঙ্কা অমূলক নয়। তিনি নিজে অবশ্য বরাবরই বিষয়টি উড়িয়ে দেন। আগেও একবার ঠিক একই সুরে বলেছিলেন, ‘ইনজুরি কখনো বলে-কয়ে আসে না। আর আপনি যদি যুদ্ধে নামেন তবে গুলি তো আপনার গায়ে লাগবেই। সেই রকম যদি ক্রিকেট খেলেন তো ইনজুরি আসবেই, ইনজুরিতে পড়বেন এটা স্বাভাবিক। আর মেইনটেইনের বিষয় যেটা বললেন, বিসিবিতে যারা ফিজিও আছেন বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট দেখেন, তারা অবশ্যই জানেন কে কয়টা ম্যাচ খেলবে। তারা আমাদের পেস বোলারদের সার্বিক দেখভাল করেন।’

বিসিবির ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি হয়েছে। গতি দিয়ে টেস্টে ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন ইবাদত হোসেন। এসিএল চোটে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর ফিরলেও এখনো আগের সেই ধার খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। তাই দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নাহিদকে প্রতিপক্ষ বুঝে ও বেছে খেলানো এবং বৈশ্বিক আসরের জন্য তাকে সতেজ রাখাটাই হবে ক্রিকেট বোর্ডের জন্য আদর্শ পথ।
 

Related Articles

Latest Posts