কিছু রাজনৈতিক দল দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য কথা-বার্তা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার বিকেলে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজিত জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আমার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দেশের মানুষ বিএনপিকে ম্যানডেট দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে, এবং সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কথা-বার্তা বলা শুরু করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১ টি কমিশন করেছিল। তার মধ্যে সংবিধান আছে, বিচারের বিষয় আছে, প্রশাসনিক আছে, স্বাস্থ্য আছে, নারী আছে। আজকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি আমরা।’
‘যারা এই সংস্কার সংস্কার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা অথবা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যে চিকিৎসা কমিশন করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষ যাতে ওষুধ সহজে পেতে পারে, চিকিৎসা সহজে পেতে পারে, সে ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলে না,’ যোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘কীভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে সেটির কথা তারা বলে না, কীভাবে আইন-শৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে সেটির কথা তারা বলে না। তারা শুধু সংবিধান সংবিধান এই বিষয়ে কথা বলে।’
‘নির্বাচনের সময় আমি বিভ্রান্তকারীদের কথা বলেছিলাম। এই গুপ্ত বিভ্রান্তকারীরা আবার এখন বিভ্রান্তের কাজ শুরু করেছে। এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি, তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্তের চেষ্টা করেছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আমরা দেখেছি, তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। ১৯৯৬ সালেও আমরা দেখেছি, স্বৈরাচারের সঙ্গে গিয়ে দেশের মানুষকে কীভাবে বিভ্রান্ত করেছিল। ২০০৮ সালেও আমরা দেখেছি, ওয়ান ইলেভেনের সঙ্গে যোগ দিয়ে তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড করতে চাই। ইমাম-মুয়াজ্জিনের জন্য ভাতা চালু করতে চাই, খাল খনন ও বৃক্ষ রোপণ করতে চাই। বেকার যুবকদের দেশে-বাইরে কর্মসংস্থান করতে চাই। এই সব ব্যাপারে তারা (বিরোধী দল) কোনো কাজ করে না। নির্বাচনের সময় বলেছিল, “রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড”, মনে আছে? জনগণের স্বার্থে যে কাজ, তা তারা রেখে দেয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা কীভাবে কুক্ষিগত করতে হবে, সেই কাজের জন্য তারা এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’
কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, তাদের অতীত ইতিহাস বলে দেয়, দেশ স্বাধীনের আগে ও পরে তারা কতবার চেষ্টা করেছে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে।’
জনগণকে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার প্রত্যেকটি আমরা বাস্তবায়ন করব, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া রেললাইন—বগুড়ার মানুষের একটি অন্যতম প্রধান দাবি। ইনশাআল্লাহ, শিগগির এই কাজ আমরা শুরু করব। বগুড়াসহ আশে-পাশের অনেক অঞ্চল কৃষি প্রধান অঞ্চল। আমরা চাই, আমাদের কৃষিজাত পণ্য দেশে যেমন থাকবে, তেমন বিদেশেও রপ্তানি হবে। আমি এর মধ্যেই কাজ শুরু করেছি, কীভাবে বগুড়া বিমানবন্দরে কার্গো প্লেন আসতে পারে এবং আমাদের উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য আমরা বিদেশে রপ্তানি করতে পারি।

