দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এসময় অন্তত ৬ জন আহত হন।
রোববার দুপুরে উপজেলার সনকা খ্রিস্টানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, মুর্মু ও সরেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে ঘোড়াবন্দ গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে রেজাউল ইসলামের ৯৩ শতাংশ খাস জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
আদিবাসী পরিবারগুলোর দাবি, তারা কয়েক প্রজন্ম ধরে ওই জমিতে বসবাস করছে। সেখানে একটি মন্দির ও একটি কবরস্থানও রয়েছে। কিন্তু, রেজাউল ওই জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, আজ দুপুর ১টার দিকে রেজাউল ও তার চাচা আজাদের নেতৃত্বে ১৫০-২০০ জন ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে মন্দির ও কবরস্থানে হামলা চালায়। তারা লাঠিসোঁটা, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মন্দিরের বাইরে ও ভেতরে প্রতিমা ভাঙচুর করে এবং কবরস্থানের ১০-১২টি গাছ কেটে ফেলে। এ সময় একটি ঘরও ভাঙচুর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের মারধর করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ভাঙচুর হওয়া প্রতিমা ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে পিউস মুর্মু (৪৫) ও বিশ্বনাথকে (২৭) বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পিউস মুর্মু দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তারা কয়েক প্রজন্ম ধরে ওই জমিতে বসবাস করছেন। কিন্তু হামলাকারীরা অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা করতে এ হামলা চালায়।
গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতা অ্যান্থনি মুর্মু ডেইলি স্টারকে জানান, তারা এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ওই জমি ব্যবহার করছেন। সনকা খ্রিস্টানপাড়া গ্রামে ৫০-৬০টি পরিবার বসবাস করে। এছাড়া আশপাশের ২০০টির বেশি ভূমিহীন আদিবাসী পরিবার এই কবরস্থান ব্যবহার করে।
তিনি আরও জানান, গ্রামে হিন্দু ও খ্রিস্টান উভয় ধর্মের আদিবাসী বসবাস করেন।
ঘটনার বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, আমি মনসুর আলীর কাছ থেকে ১৯৯৯ সালে ৪১ শতাংশ ও ২০২৩ সালে আরও ৪৮ শতাংশ জমি কিনেছি। বাকি ৪ শতাংশ কবরস্থানের অন্তর্ভুক্ত।
তবে আদিবাসীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ফারিহা তাসনিম ডেইলি স্টারকে বলেন, বিশ্বনাথ সরেনের বুকে তীরের আঘাত রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমা খাতুন ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বীরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপঙ্কর বর্মন ডেইলি স্টারকে বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি সরকারি খাস জমি।

