দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর চলবে: জ্বালানিমন্ত্রী

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে অবশিষ্ট মজুত গ্যাসের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, তা ১২ বছর সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

আজ রোববার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৬তম দিনের কার্যক্রমে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

লিখিত প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত ২৯ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট মজুত গ্যাসের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে এবং বর্তমানে কম-বেশি দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করা হলে ওই অবশিষ্ট ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আনুমানিক ১২ বছর সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পেট্রোবাংলা কর্তৃক ৫০ থেকে ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনার আওতায় আজ পর্যন্ত  ২৬টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কূপগুলো খনন এবং ওয়ার্কওভারের লক্ষ্যে কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান।

তিনি আরও বলেন, বাপেক্স কর্তৃক সিসমিক সার্ভের আওতায় ব্লক-৭ ও ৯-এ প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের ডেটা আহরণ করে উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলমান। বিজিএফসিএল কর্তৃক হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনার ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সিসমিক ডেটা আহরণের কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি বাপেক্স কর্তৃক ভোলার চরফ্যাশনের ৬৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকায়, জামালপুরে ৬৫০ বর্গকিলোমিটার, বিজিএফসিএল কর্তৃক তিতাস, হবিগঞ্জ এবং নরসিংদী-সংলগ্ন ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় এবং এসজিএফএল কর্তৃক লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা সাউথ এবং ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েস্ট স্ট্রাকচারে ৮৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সিসমিক জরিপ সম্পাদনের নিমিত্তে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts