জেলিফিশ নাকি মানুষের মতো প্রায় আট ঘণ্টা ঘুমায়। কেবল ঘুমায় না, মাঝে মাঝে দুপুরের দিকে একটু একটু ঝিমুনিও আসে। আরও মজার ব্যাপার হলো, একদিন ঘুম কম হলে পরদিন বেশি ঘুমিয়ে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নেয়। এই কথাগুলো শুনতে হয়তো অবাক লাগছে, তাই না? কিন্তু নতুন এক গবেষণায় এই তথ্যগুলোই উঠে এসেছে।
ওই গবেষণা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিজ্ঞান সাময়িকী নিউ সায়েন্সটিস্ট।
এই গবেষণার সঙ্গে ছিলেন ইসরায়েলের বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লাওর অ্যাপেলবাম।
লাওর অ্যাপেলবাম বলেন, মানুষের মতোই জেলিফিশ তাদের জীবনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘুমিয়ে কাটায়। অথচ অবাক করার বিষয়, জেলিফিশের মানুষের মতো জটিল মস্তিষ্কই নেই! এ ধরনের প্রাণীকে স্নিডেরিয়ান বলা হয়। তাদের শরীরে খুব সাধারণ ধরনের স্নায়ু জালিকা থাকে। মানে তাদের শরীরে মস্তিষ্ক না থাকলেও জালের মতো ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট স্নায়ু দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ক্যাসিওপিয়া অ্যান্ড্রোমিডা নামের এক ধরনের উল্টো হয়ে থাকা জেলিফিশকে ২৪ ঘণ্টা ধরে ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, দিনে তারা প্রতি মিনিটে ৩৭ বারের বেশি শরীর নড়াচড়া করেছে এবং আলো বা খাবারের প্রতি দ্রুত সাড়া দিচ্ছিল। গবেষকরা বলছেন, এগুলো জেগে থাকার লক্ষণ।
কিন্তু রাতে তাদের নড়াচড়া কমে যায় এবং সাড়া দেওয়ার পরিমাণ অনেক কমে যায়। গবেষকরা বলছেন, এগুলো ঘুমিয়ে থাকার লক্ষণ।
এই গবেষণায় দিন ও রাতের আবহ তৈরি করতে তাদের অর্ধেক সময় আলোর সংস্পর্শে রাখা হয়েছিল বলে নিউ সায়েন্সটিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়।
অ্যাপেলবাম বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে—জেলিফিশ সাধারণত রাতে প্রায় আট ঘণ্টা ঘুমায় এবং দিনের বেলা, বিশেষ করে দুপুরে এক থেকে দুই ঘণ্টার বিশ্রাম নেয়। এমনকি তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো হলে, পরদিন তারা আরও বেশি সময় ঘুমিয়েছিল। অনেকটা মানুষের মতো, যেমন আমরা ঘুম কম হলে পরদিন ক্লান্ত হয়ে বেশি ঘুমাই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষণায় দেখা গেছে—জেগে থাকার সময় জেলিফিশের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ঘুম সেই ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।
অন্যান্য জেলিফিশ প্রজাতি বা এমনকি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে কিনা তা দেখার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অ্যাপেলবাম।
তবে গবেষকরা আরেক সামুদ্রিক প্রাণী স্টারলেট সি অ্যানিমোনের (নেমাটোস্টেলা ভেকটেনসিস) ওপর একই গবেষণা চালান। সেখানেও গবেষকরা একই রকম ফল পান বলে জানিয়েছেন অ্যাপেলবাম।
এই গবেষক আরও জানান, এই গবেষণা থেকে বোঝা যায়, পৃথিবীতে ঘুমের ধারণা হয়তো অনেক পুরোনো। যদিও সেটা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা দরকার।

