‘ভোররাতে এসে দুপুর হয়ে গেল—তেল পাইনি, চাকরিতে যাব কীভাবে’

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে জ্বালানি তেল মিলছে না।

এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। আজ রোববার সকালে কাপাসিয়ার আমরাইদ বাজার মোল্লা পেট্রোল পাম্প থেকে বড়হর নতুন বাজার পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

মোটরসাইকেল, নসিমন, পিকআপ ভ্যান, স্কুল বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের পাশাপাশি একটি অ্যাম্বুলেন্সকেও জ্বালানির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

রাজধানী ঢাকার উত্তরায় একটি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি করেন মিজানুর রহমান (৪৫)। তার বাড়ি কাপাসিয়ার বিবাধিয়া গ্রামে।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে মিজান বলেন, ‘ভোর রাতে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। দুপুর হয়ে গেলেও পাম্পের কাছাকাছি যেতে পারিনি।’

‘এখনো অন্তত দুই ঘণ্টা লাগবে তেল পেতে, চাকরিতে যাব কীভাবে বুঝতে পারছি না!’ বলেন তিনি।

এদিন সকাল থেকেই ঢাকা-কিশোরগঞ্জ সড়কের মোল্লা ফিলিং স্টেশনের সামনে তীব্র যানজট দেখা যায়। তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি মূল সড়কে চলে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল।

সেখানেই কথা হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরকারি কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের সঙ্গে। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘২০০ টাকার তেল পাওয়া যাচ্ছে। আসা-যাওয়ায় তেল শেষ হয়ে যায়। এখন কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।’

নসিমনচালক আমান উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার একমাত্র সম্বল আমার নসিমন। রাত ৩টায় এসেছি, এখন দুপুর। বিকেলে আর কী কাজ করব? এভাবে কি দিন চলবে?’

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন পাম্পে তেল পাওয়া যায় না, ফলে জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মমিন মিয়া জানান, জ্বালানি তেলের সংকট শুরুর পরে আজকের মতো দীর্ঘ লাইন তিনি আগে দেখেননি।

মোল্লা ফিলিং স্টেশনের মালিক জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, ‘আমি তেল দিচ্ছি, কিন্তু মানুষের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে কষ্ট হচ্ছে।’

‘অতিরিক্ত লোক দিয়ে লাইন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।’

যোগাযোগ করা হলে জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা সংগঠক ও স্টেশন ট্যাগ অফিসার মো. এমরান হোসেন ডেইলি স্টারকে জানান, আজই প্রথম এত দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘কাপাসিয়ায় ছয়টি পাম্পের মধ্যে একটি—দ্বীন ফিলিং স্টেশন মালিকানা দ্বন্দ্বে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে। এছাড়া, মোল্লা ফিলিং স্টেশন গত দুই দিন তেল আনতে পারেনি, তাই আজ চাপ বেশি।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তামান্না তাসনীমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Related Articles

Latest Posts