নিজের জন্য দুঃখ নেই, প্রান্তিক মানুষের জন্য আছে

বিশ্বনন্দিত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ। বিশ্বের বহু দেশে জাদু দেখিয়ে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন। 

একজন বংশীবাদক হিসেবেও তার খ্যাতি আছে। আবার একইসঙ্গে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও তিনি। একুশে পদক পেয়েছেন এবং বিশ্বের অনেক দেশ থেকে পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

আজ ১০ এপ্রিল তার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে তিনি কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

‘অসংখ্য মানুষ আপনাকে ভালোবাসে—কেমন লাগে?’ এই প্রশ্নের জবাবে জুয়েল আইচ বলেন, ‘ভালো লাগে। আমি আনন্দিত। এত মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। অনেক ভালো লাগা কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সমাজে একজন মানুষের সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য যা যা দরকার তা আমার আছে। বেশি কিছু চাই না। তবে সাধারণ মানুষ, গরিব মানুষ, প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখে খারাপ লাগে। কষ্ট পাই। প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করতে পারিনি। এটা আমাকে কষ্ট দেয়।’

জুয়েল আইচ বলেন, ‘নিজের জন্য দুঃখ নেই, প্রান্তিক মানুষের জন্য আছে।’

কথায় কথায় জুয়েল আইচ বলেন, ‘আমি তো মুক্তিযোদ্ধা। মাঝে মাঝে যুদ্ধের স্মৃতি মনে করি। একটি ঘটনা মনে পড়ছে। ১৯৭১ সালে আমাদের সঙ্গে দুজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যাদের শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। গেঞ্জি পরে জীবন দিয়ে যুদ্ধ করতে এসেছিলেন। একজনের গেঞ্জি এতটাই ছেঁড়া ছিল যে মনে পড়লেই চোখ ভিজে যায়। এইরকম উদাহরণ অনেক আছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই সময় টের পেয়েছি কী কষ্ট করে প্রান্তিক মানুষের জীবন কাটে। তারপরও তারা জীবনদান করতে এসেছিলেন স্বাধীন দেশ পাওয়ার আশায়। তাও আবার আমরা যুদ্ধ করেছি পাকিস্তানের সাথে, যাদের ছিল বিশাল বাহিনী।’

১৯৭১ সালের স্মৃতি স্মরণ করে জুয়েল আইচ আরও বলেন, ‘ওই সময় আমাদের কলার থোড় খেয়ে পানির অভাব পূরণ করতে হয়েছিল। কেননা, নদী দিয়ে প্রায়ই লাশ ভেসে আসত। ওই নদীর পানি খাওয়ার মতো অবস্থা তখন ছিল না। শকুন এসে লাশের ভুড়ি খেয়ে যেত।’

তিনি বলেন, ‘জায়গাটার নাম পেয়ারা বাগান। ঝালকাঠি, স্বরূপকাঠি ও বানারিপাড়ার একটা অংশ নিয়ে পেয়ারা বাগান। ওখানেই যুদ্ধের সময় আমরা ছিলাম।’

জন্মদিনে কে প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে। মেয়ে বড় হয়েছে। আমাকে এখন মায়ের মতো আদর করে, শাসন করে।’

এদিকে, জুয়েল আইচের জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবছি অনুষ্ঠানের আয়োজন যারা করেছেন, ওখানে আবার শুভাকাঙ্ক্ষীরা বেশি চলে আসেন কি না। এটা নিয়ে চিন্তায় আছি। তাছাড়া, যারা আয়োজন করেছেন তাদের প্রতি ভালোবাসা।’

Related Articles

Latest Posts