চীন-তাইওয়ানের মানুষ একতাবদ্ধ হবেই, এটা অনিবার্য: শি জিনপিং

মধ্যপ্রাচ্যে ৩৯ দিনের তান্ডব শেষে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভঙ্গুর, কিন্তু আপাতত যুদ্ধবিরতি সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে। আগামীকাল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় বসবে তেহরান-ওয়াশিংটন। সব নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে। 

এরই মাঝে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে এলো এক ভিন্নধর্মী খবর। 

চীনের দীর্ঘদিনের নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন তাইওয়ানের বিরোধী দলের নেতা। 

 

দুই নেতাই চীন-তাইওয়ানের একীভূত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। 

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। 
আজ স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানের বিরোধী দলের নেতা চেং লি-উন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে দেখা করেছেন। 

এ সময় চীনের নেতা তাইওয়ানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘তাইওয়ান ও চীনের মানুষ একতাবদ্ধ হবেই।’
এ বিষয়ে তার আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি নেই—এ কথাও জানান শি। 

প্রায় এক দশক পর প্রথম নেতা হিসেবে চিন সফর করেছেন তাইওয়ানের বিরোধী দল কুয়োমিনতাং (কেএমটি)-এর চেয়ারপার্সন চেং। 

 

তার এই সফর তাইওয়ানে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, তিনি ‘বেশি মাত্রায় বেইজিংয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন।’

২০১৬ সালে তাইওয়ানে ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির নেতা সাই ইং-ওয়েন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বেইজিং-তাইপে সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। 

স্ব-শাসিত দ্বীপ তাইওয়ান আদতে চীনের ভূখণ্ডের অংশ—বেইজিংয়ের এই দাবি নাকচ করেন তিনি। সেখান থেকেই ঝামেলার শুরু। 

শুক্রবারের বৈঠকে চেংকে শি বলেন, ‘তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পাশের মানুষের মধ্যে দিনে দিনে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ছে। তারা আরও কাছাকাছি আসছে এবং একাত্মতার দিকে আগাচ্ছে। এই ধারায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।’ 

‘এটা ইতিহাসের অনিবার্য একটি অংশ। এ বিষয়ে আমার পূর্ণ আত্মবিশ্বাস আছে’, যোগ করেন শি। 
তিনি আরও জানান, কেএমটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা বাড়াতে আগ্রহী বেইজিং। 

তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতার রাজনৈতিক মূলনীতির সঙ্গে’ যারা একমত, তাদের সঙ্গেই আলোচনা করতে আগ্রহী বেইজিং—এটাও উল্লেখ করতে ভুলেননি তিনি। 

 

কেএমটির রাজনৈতিক আদর্শ চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে। 

চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। এমন কী, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগে এর ‘দখল’ নেওয়ার হুমকিও এসেছে বেশ কয়েকবার। 

বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চেং বলেন, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে আমরা যুদ্ধ এড়াতে পারি।’

শিকে তিনি এর আগে বলেন, তাইওয়ান প্রণালিকে ‘সম্ভাব্য সংঘাতের কেন্দ্র’ হিসেবে আর বিবেচনা করা উচিৎ নয়। 

‘উভয় পক্ষের উচিৎ রাজনৈতিক সংঘাতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া’, যোগ করেন তিনি। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের আশেপাশে সামরিক শক্তিমত্তা বাড়িয়েছে চীন। প্রতি বছরই তাইওয়ানের আশেপাশে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে বড় আকারে সামরিক মহড়ার আয়োজন করে চীন। 

তাইওয়ানের আইনপ্রণেতারা চীনের নিরন্তর হুমকির মধ্যে নতুন করে প্রতিরক্ষা খাতে ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে চেং এর কেএমটি পার্টি এই বিল পাস হতে দেয়নি। মাসের পর মাস বিষয়টি পার্লামেন্টে ‘ঝুলে আছে’। 

আগামী মাসে বেইজিং সফরে যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সফরের আগে চেং-এর সফরকে অর্থবহ বলছেন বিশ্লেষকরা। 

সরকারের এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন চেং। তিনি মন্তব্য করেন, ‘তাইওয়ান একটি এটিএম নয়’। 

প্রতিরক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দের বদলে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার জন্য ১২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দেন তিনি।

Related Articles

Latest Posts