মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করার হুমকি দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে এবং দেশীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রয়টার্স বলছে, মার্কিন সিনেটররা এ মন্তব্যকে গণহত্যার সমতুল্য বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, ‘এটি অবৈধ ও অনৈতিক’।
সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জ্যাক রিড বলেছেন, ‘একটি সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি গণহত্যার সমতুল্য। এটি অবৈধ, অনৈতিক এবং কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্টের ভাষার অংশ হওয়া উচিত নয়। এমন হুমকি বাস্তবে প্রয়োগ হলে তা আপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’
রিড আরও জানিয়েছেন, এই মন্তব্য আমেরিকার মিত্র ও সেনাদের জন্য জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ‘পেশাদার সামরিক কর্মকর্তারা কোনো অবৈধ নির্দেশ পালন করতে পারবেন না। এটি শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে রিড আশা প্রকাশ করেছেন যে, ট্রাম্পের কথাগুলো যেন শুধু বাক্যই হয়, কোনো কার্যক্রমে পরিণত যাতে না হয়।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাবেক এক আইন উপদেষ্টাও বলেছেন, ট্রাম্পের হুমকিকে ‘গণহত্যার হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে’।
সিনেটর মার্ক কেলি, যিনি মার্কিন নেভিতে ২৫ বছর কর্মরত ছিলেন, বলেছেন, ‘একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা আজ রাতে শেষ হয়ে যাবে’ এমন কথা এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখনও বলেননি। ট্রাম্পের আচরণ অনিয়ন্ত্রিত এবং এটি আমেরিকানদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
কেলি উল্লেখ করেছেন, যদি প্রেসিডেন্ট তার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, অগণিত ইরানি নাগরিক মারা যাবে। যুদ্ধের উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নৈতিক মানহীন দেশ হিসেবে দেখা হবে। এতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবনও ঝুঁকিতে পড়বে।
তিনি আরও বলেছেন, ‘ট্রাম্পের ভুল সিদ্ধান্তই এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে, কিন্তু উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। এটি অবিলম্বে থামানো দরকার।’

