দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, সংসদে কার্যকর ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে দলটি জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার প্রথম অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, দেশে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ ‘বিকল’ হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো সচল করার মূল দায়িত্ব সরকারি দলের। সরকারি দল আন্তরিক হলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।

‘আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জনগণের সঙ্গেই থাকব। জনস্বার্থ সংরক্ষণই হবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব,’ যোগ করেন তিনি।

সংসদে বিরোধী দলের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের সভ্য দেশগুলোর মতো সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হওয়া প্রয়োজন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, স্বার্থ বিঘ্নিত হলে বিরোধী দল হিসেবে তারা ‘পাহারাদারের’ ভূমিকা পালন করবেন। তিনি বলেন, ‘দেশ ও জাতির স্বার্থে আমরা হাতে হাত রেখে কাজ করতে চাই।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে জনগণকে মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের আন্তরিক উদ্যোগের পাশাপাশি বিরোধী দলের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

বক্তব্যে তিনি ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা’র প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বলেন, সংসদ পরিচালনায় জনগণের অবদান ও ত্যাগের কথা স্মরণ রাখা জরুরি। ‘জুলাইয়ের কারণগুলো ভুলে গেলে সেই পরিস্থিতি আবার ফিরে আসতে পারে,’ যোগ করেন জামায়াত আমির।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ১৯৪৭ সালের রাষ্ট্রগঠন, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অতীতে দায়িত্বশীল আচরণের ঘাটতির কারণে বৈষম্য ও সংকট তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সরকার ও বিরোধী দলকে দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমবেত প্রচেষ্টায় দেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রতিষ্ঠিত হবে। জামায়াত আমির বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ আছে, কিন্তু উভয়ের আন্তরিকতা থাকলে তা অতিক্রম করা সম্ভব।’

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ভোটার ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাশামতো হোক বা না হোক, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

আগামীকাল থেকে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন অধ্যায়ের সূচনা দেশের জন্য কল্যাণকর হোক এবং সুস্থ রাজনীতির বিকাশ ঘটুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। যুব সমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়েও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।

সভার পর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের লাল রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আগামীকাল থেকে সংসদীয় রাজনীতির নবযুগের সূচনা কীভাবে হয়, গোটা জাতি তা দেখার অপেক্ষায়।’

দেশের মানুষকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ‘আন্তরিক অভিনন্দন’ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এবার জনগণের লুণ্ঠিত অধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই।’

Related Articles

Latest Posts