পেসারদের দাপটে দুই রেকর্ড গড়ে জিতে শুরু জিম্বাবুয়ের

বোলিংয়ের শুরুতে সাফল্য এনে সুর বেঁধে দিলেন ব্লেসিং মুজারাবানি। পাশাপাশি তোপ দাগলেন রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স। জবাব খুঁজে না পেয়ে কোনোমতে একশ পেরিয়ে অলআউট হলো ওমান। পেসারদের নৈপুণ্যে পাওয়া সহজ লক্ষ্য অনায়াসে পেরিয়ে জিতল জিম্বাবুয়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুভ সূচনার সঙ্গে দুটি রেকর্ডও গড়ল দলটি।

সোমবার কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতেছে জিম্বাবুয়ে। টস জিতে ওমানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ১৯.৫ ওভারে মাত্র ১০৩ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ৩৯ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছায় তারা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উইকেটের বিবেচনায় জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড এটি। এর আগে ২০১৪ সালের আসরে সিলেটে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল তারা। শুধু তাই নয়, বল বাকি থাকার হিসাবেও জিম্বাবুয়ে পেয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়। ৩৮ বল হাতে রেখে জয়ের আগের কীর্তিটিও ছিল আরব আমিরাতের বিপক্ষে ওই ম্যাচেই।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভার থেকেই শুরু হয় ওমানের দুর্দশা। তাদের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের কেউই যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। দুজন খুলতে ব্যর্থ হন রানের খাতাই।

আক্রমণে এসে প্রথম বলেই অধিনায়ক জতিন্দর সিংকে বোল্ড করে দেন মুজারাবানি। পরের ওভারে হাম্মাদ মির্জাকে বিদায় করেন এনগারাভা। চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে ফিরে জোড়া শিকার ধরেন মুজারাবানি। চার বলের মধ্যে আমির কলিম ও করণ সোনাভেলকে ছাঁটেন তিনি। দলনেতা সিকান্দার রাজার করা সপ্তম ওভারে ওয়াসিম আলী স্টাম্প খোয়ালে মহাবিপাকে পড়ে ওমান।

২৭ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে এরপর টানেন সুফিয়ান মেহমুদ ও বিনায়ক শুক্লা। এই জুটিতে আসে ৪৩ বলে ৪২ রান। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে বিনায়ককে (৩৯ বলে ২৫ রান) উইকেটরক্ষক ব্রেন্ডন টেইলরের গ্লাভসবন্দি করিয়ে ওমানের প্রতিরোধ ভাঙেন এনগারাভা। ওই ওভারের শেষ বলে জিতেন রমানন্দিকেও সাজঘরে পাঠান তিনি।

সুফিয়ানকে থামানো (২১ বলে ২৮ রান) ইভান্স ইনিংসের শেষ ওভারে আউট করেন নাদিম খান ও শাকিল আহমেদকে। সুফিয়ান ও বিনায়ক ছাড়া আর দুই অঙ্কে পৌঁছান নাদিম (১৮ বলে ২০ রান)।

মুজারাবানি ১৬ রানে ৩ শিকার ধরে জেতেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। সমান সংখ্যক উইকেট নিতে এনগারাভা ১৭ ও ইভান্স ১৮ রান দেন। বাকিটি পেতে রাজার খরচা ১৭ রান।

রান তাড়ায় টাডিওয়ানাশে মারুমানির ব্যাটে আগ্রাসী শুরু পায় জিম্বাবুয়ে। পাঁচটি চারে ১১ বলে তার ২১ রানের ইনিংস থামে সুফিয়ানের করা চতুর্থ ওভারে। দুই বলের মধ্যে ডিওন মেয়ার্সও বিদায় নেন। ৩০ রানে ২ উইকেট হারানোর চাপ আলগা করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও চারে নামা অভিজ্ঞ টেইলর।

রান নিতে গিয়ে পায়ে চোট পাওয়া টেইলর আহত অবসরে যাওয়ার আগে বেনেটের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৫৬ বলে ৬৮ রান। তিনি করেন ৩০ বলে ৩১ রান। পরের ওভারে সোনাভেলকে চার মেরে ম্যাচের ইতি টানেন রাজা। বাছাইপর্ব পেরোতে না পারায় গত বিশ্বকাপে খেলতে না পারা জিম্বাবুয়ে পায় জয়ের হাসি। অন্যপ্রান্তে বেনেট অপরাজিত থাকেন সাতটি চারে ৩৬ বলে ৪৮ রান করে।

Related Articles

Latest Posts