কোনভাবেই দমছে না সিলিকন সিটি: বালু দিয়ে নদী ভরাট, জলধারা, কৃষিজমি ও খাল দখলের মহোৎসব

সাভারের বড় বরদেশী মৌজায় হাইকোর্টের রুলের পরেও বালু দিয়ে নদী , খাল, হালট, জলধারা, কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাট করছে সিলিকল সিটি নামে অননুমোদিত আবাসন প্রকল্প।

প্রায় দেড়বছর আগে সাভারের বড় বরদেশী মৌজায় নদী, খাল , জলাধার ও কৃষি জোন ভরাট করে গড়তে যাওয়া ‘সিলিকন সিটি’ নামের অননুমোদিত আবাসন প্রকল্পের সব কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জলাধার ও কৃষিজমি বাচাতে দেড় বছর আগে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) করা একটি রিটে আদালত বালু ভরাট বন্ধে রুল জারি করেও কোন কাজে আসেনি। রুল অমান্য করে এখনো বালু দিয়ে নদী ভরাট করছে সিলিকন সিটি। এতে বিপন্ন হয়েছে এলাকার জলাধারা-কৃষিজমি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাভারের বড় বরদেশী মৌজার বিভিন্ন দাগে অসংখ্য খাল ও জলাশয় রয়েছে, যার মধ্যে স্থানীয়ভাবে পরিচিত চাপড়ার খাল অন্যতম। এসব খান জলধারা বালু দিয়ে ভরাট করার বিপযের মুখে পরেছে পরিবেশ। তবে জুলায়ের পরে তারা চাপে আছে বলেও জানায় স্থানীয়। আগের মতো হাকডাক নেই।

স্থানীয় কুলসম জানায়, ভেতরে গরুর খামার ও শিশুদের খেলার মাঠ ও রেস্টুরেন্ট। এছাড়া জমিও বেচাকেনা হয়, তবে অনেকটাই লুকিয়ে। অনেক দিন আগে স্যারেরা আসছিল, শুনছি তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযাগে। তারা নাকি সরকারি জমি দখল করছে।

সিলিকন সিটির বিরুদ্ধে একটি মামলাও করে রাজউক। মামলার নথি খেকে জানা যায়, পুকুর, জলাশয়, হালট, জলাশয়, কৃষিজমি ও নদীর অংশবিশেষে মাটি ভরাট করার অপরাধে সাভার মডেল থানায় ২০২৪ সালের ২৪ জুন মাসে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের চেয়ারম্যানের পক্ষে মো. রেজাউল করিম ( সার্ভেয়ার জোন ৫) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এখনো চলছে।

মামলার বাদী সার্ভেয়ার মো. রেজাউল করিম জানান, ভিজিট করার পর রাজউকের পক্ষ থেকে মামলা করি। মামলা করেছি, তবে এরপরই আমাকে বদলি করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: লুৎফর রহমান বলেন, অভিযানে তাদের ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ পযন্ত তারা ৪৫ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা পরিশোধ করেনি। েএছাড়া ছাড়পত্র দেয়া হয়নি।

আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফ আলী। তিনি বলেন, ঢাকার সাভারের বড় বরদেশী মৌজার বিভিন্ন দাগে অসংখ্য খাল ও জলাশয় রয়েছে, যার মধ্যে স্থানীয়ভাবে পরিচিত চাপড়ার খাল অন্যতম। রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় উল্লেখিত দাগগুলো মূল বন্যাপ্রবাহ এলাকা, কৃষি জোন ও জলাধার হিসেবে চিহ্নিত। সিলিকন ওই দাগগুলোতে বিদ্যমান খাল, আশপাশের কৃষিজমি ও নদীর অংশবিশেষ ভরাট করে ‘সিলিকন সিটি’ নামে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন ছাড়াই ‘সিলিকন সিটি’ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। শুনেছি, ডিসি অফিস ব্যবস্থা নেবে।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সিলিকট সিটি প্রায় ৩ একরের বেশি সরকারি জমি দখলে নিয়েছে। এছাড়া বালু দিয়ে অবৈধভাবে নদী ভরাট করা হচ্ছে। সিলিকনসহ কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই অভিযান চালাবে ঢাকা ডিসি অফিস।

সিলিকন সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: সরোয়ার খালেদের ‍বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন মামলায় জালিয়াতি করে তিনি জামিন নিয়েছে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছে। যোগাযোগ করা হলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া অফিসে যোগাযোগ করা হলেও তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। সূত্র জানায়, সরকারের যথেষ্ঠ চাপে রয়েছেন তারা। এখন ব্যবসা আগের মতো নাই।

সিলিকনের একজন অফিস সহকারী জানায়, তাদের আবসনের ব্যবসার সব ধরনের কাজ এখন বন্ধ, এমনকি অফিসও।

Related Articles

Latest Posts