ছয় মারার মাসল মেমোরি আছে আগে থেকেই, অনুশীলন করা লাগবে না: সাব্বির

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডে মঙ্গলবার রাজশাহী বিভাগের হয়ে অনবদ্য সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন সাব্বির রহমান। দীর্ঘ আট বছর পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শতকের স্বাদ নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। বড় ইনিংস খেলার এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আসন্ন হংকং সিক্সেস টুর্নামেন্টে নিজের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছেন তিনি।

আগামী ৩০ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া এই সিক্স-এ-সাইড টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে লড়বে বাংলাদেশ। সেখানে তাদের সঙ্গী স্কটল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা।

মারমুখী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত সাব্বিরের সঙ্গে বাংলাদেশ দলে আছেন আবু হায়দার রনি, হাবিবুর রহমান সোহান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, সামিউন বসির, আহরার আমিন ও চৌধুরী মো. রিজওয়ান।

হংকং সিক্সেস মাঠে গড়ানোর আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন ৩৪ বছর বয়সী সাব্বির। রাজশাহীর দ্বিতীয় ইনিংসে ২২১ বলে আটটি চার ও একটি ছক্কায় ১১৩ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন তিনি। এটি তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পঞ্চম এবং ২০১৮ সালের পর প্রথম সেঞ্চুরি। তার এই শতক ও লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তার সুবাদে খুলনার বিপক্ষে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে রাজশাহী।

দীর্ঘ সংস্করণের ম্যাচ শেষে আসন্ন সংক্ষিপ্ত পরিসরের টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে স্বভাবসুলভ রসিকতা করেন সাব্বির, ‘৩০ ফুটের মাঠে আর কী লক্ষ্য ভাই? আসলে কোনো লক্ষ্য নাই।’

এরপর তিনি যোগ করেন, ‘তবে চেষ্টা করব যে, ছয় ওভারের খেলায় যতটুকু ছয় মারা যায়। ওখানে তো ছয় মারার খেলা। ওই ছয় মারার মাসল মেমোরি (দীর্ঘদিন ধরে একই কাজ করতে করতে পেশির সেই কাজে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া) আছে আমার আগে থেকেই। তো এর জন্য অনুশীলন করা লাগবে না। আরও দুইটা ম্যাচ আছে এনসিএলের। এগুলো শেষ করে যেন ভালো আত্মবিশ্বাস যেতে পারি, এটাই আমার কাছে লক্ষ্য।’

এক সময় বাংলাদেশ জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন সাব্বির। তবে দীর্ঘদিন ধরেই দলের বাইরে আছেন তিনি।

লাল-সবুজ জার্সিতে ফেরার দরজা অবশ্য একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি এই ডানহাতি ব্যাটারের। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করার মাধ্যমে ফিরতে চাওয়ার আশা জানান তিনি, ‘লক্ষ্য তো সব সময় থাকে জাতীয় দল। এখন এনসিএল নিয়ে কাজ করছি। যেহেতু এনসিএলে খেলার আগে ইংল্যান্ডে অনুশীলন করেছি এবং ম্যাচ খেলেছি, তো লাল বলের ক্রিকেটের একটা অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। চেষ্টা করছি, নিজেকে যতটুকু সময় দেওয়া যায়, রান করা যায়। রান করলেই আপনার আত্মবিশ্বাসটা তৈরি হবে এবং রান করলেই আপনার লক্ষ্যটা পূরণ হবে।’

Related Articles

Latest Posts