ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ছাড়া অন্যান্য বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছিল। এবার সেই হুমকি পরিণত হয়েছে হুঁশিয়ারিতে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এবার জাহাজীকরণ প্রতিষ্ঠান, এয়ারলাইনস এবং এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা; এমনকি, সৌদি আরবে কাজ করতে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের পাশাপাশি পর্যটকদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ব্যবহার করলে আপনারা ‘আমাদের বাহিনীর সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন।’
আজ সোমবার লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
সারি জানান, হুতি যোদ্ধারা গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এতে ‘ওই বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে এবং এটি এখন পুরোপুরি বন্ধ আছে।’
গতকাল রোববার টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ইয়াহিয়া সারি গত শনিবারের হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাম্মাম বিমানবন্দর এবং দেশটির প্রধান তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।
অন্যদিকে, হুতিদের টেলিভিশন চ্যানেল আল মাসিরাহ জানিয়েছে, ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি জোটের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গতকাল রোববার হুতিদের মুখপাত্র সারি একই ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘বিমানবন্দর ও আকাশসীমা হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এগুলো আমাদের বাহিনীর সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু।’
পবিত্র মক্কা ও মদিনা শহরকে এই হুমকির বাইরে রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি। সে সময় ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওই দুই শহর ছাড়া অন্যান্য শহরেও যাত্রীদের ভ্রমণ না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে হুতিরা।
তবে এবার সৌদি আকাশসীমা একেবারেই ব্যবহার না করার হুঁশিয়ারি আসলো হুতিদের পক্ষ থেকে।
ইতোমধ্যে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হুমকি কাজ করতে শুরু করেছে।
আজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রিয়াদের আকাশ অনেকটাই ফাঁকা। উড়োজাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, এদিন নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
সিরিয়ামের তথ্য বলছে—সৌদি আরবের প্রধান বাণিজ্যিক শহর জেদ্দার পর দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল রোববার নির্ধারিত ফ্লাইটের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাতিল করা হয়।
আজ সোমবার দেশজুড়ে নির্ধারিত ফ্লাইটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি চলাচল না করার আশঙ্কা আছে।
ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৭৮ শতাংশ ফ্লাইট বাতিলের হিসাব দিয়েছে।
গতকাল রোববারের হামলায় একজন নিহত ও অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হওয়ার পর সৌদি রাজধানীর বিমানবন্দরটি বন্ধ ছিল।
এর আগের দিন হুতিদের দাবি করা আরেকটি হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন।
এসব হামলায় সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচলে বড় বাধা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দেশটির এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি আরবে যাওয়ার সময় বা দেশটির আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়োজাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম সৌদি রাজধানীতে যাওয়া-আসার ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখার আগের সিদ্ধান্তের মেয়াদ বাড়িয়ে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত করেছে।

