ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের ঘটনায় প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে বিক্ষোভের দিন ঘিরে আগাম সতর্কতামূলক অভিযানে রাজধানী থেকে আরও প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর)। তবে তাদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার।
এদিকে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি ও অন্যান্য দাবিতে আজ রোববার দিল্লিতে আবারও ‘চলো যন্তর মন্তর’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির যুব ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, তাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর লাইভ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর সিজেপির ৩ নেতার মুক্তি
বিক্ষোভের আগে দিল্লিতে আটক সিজেপির তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে দিল্লি ক্যান্ট পুলিশ স্টেশনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন দলটির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং।
শনিবার মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজ থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে রোববার সকালে তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়।
অভিজিৎ দীপকের বাবা ভগবান দীপকে অভিযোগ করেছেন, ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তারা। তার দাবি, দিল্লি পুলিশ তাদের কাছে সঠিক তথ্য দেয়নি। দাদির মৃত্যুর খবর পেলে এতক্ষণে সে বাড়ি ফিরে আসত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অভিজিতের বন্ধুদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, তাকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের ঘটনায় আটক সিজেপি নেতাদের মুক্তি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে করা একটি হেবিয়াস করপাস আবেদন প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারী হিসেবে থাকা দলটির কভারেজ সমন্বয়ক গৌরব ভারতী আবেদনটি প্রত্যাহার করতে চান বলে জানিয়েছেন আইনজীবী শাশ্বত আনন্দ।
তার ভাষ্য, আবেদন করার বিষয়ে দল থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
ধ্রুব রাঠিও মুক্ত
সিজেপির ডাকা সিইসিবিরোধী বিক্ষোভের আগে গুরুগ্রাম থেকে আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে রোববার ভোরে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ।
শনিবার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-তে নিজের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল।
গণআটক ও পরিবহন বন্ধের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি
দিল্লি পুলিশের নির্বিচার আটকের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদনের শুনানি করছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিক্ষোভের ঘটনায় রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আটক করার অভিযোগ তুলে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার আবেদন জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দিল্লিতে সমবেত হওয়া ঠেকাতে গণপরিবহন, রেল ও মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার একটি আবেদনও শুনছে আদালত। বিশেষ অধিবেশনে এসব বিষয়ে শুনানি হচ্ছে।
শনিবার দিনভর দিল্লিতে প্রায় আড়াই হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তাদের দাবি, সন্ধ্যার মধ্যে আটক সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে বিক্ষোভের আগে রাতভর অভিযানে আটক প্রায় এক হাজার মানুষের হিসাব এর বাইরে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও ছিলেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হস্তক্ষেপের পর আটক কয়েকজন আইনজীবীকে মুক্তি দেওয়া হয়।

