দিল্লিতে শনিবার গণজমায়েতের ডাক ককরোচদের, পুলিশ মোতায়েন ও ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ সরকারের

ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ-আন্দোলনের মধ্যে আগামীকাল শনিবার নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক ‘যন্তর মন্তর’ এলাকায় বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

সমাবেশের আগেই আজ শুক্রবার সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে।

পাশাপাশি, সমাবেশস্থলের আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার গণজমায়েতের ডাক দিয়েছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য, একই ব্যক্তির একাধিক নাম এবং ভোট দেওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা থেকে বাদ দিতেই এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, এই কার্যক্রমের ফলে ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য সুবিধা তৈরি করবে।

রাজধানী নয়াদিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক বিক্ষোভে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা যোগ দিয়েছেন।

চলতি সপ্তাহে বিক্ষোভ চলাকালে অল্প সময়ের জন্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধিকে আটক করা হয়েছিল।

ভারতের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া (ইসিআই) অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকে সামনে রেখে রাজধানীতে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

শহরের কেন্দ্রস্থলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে হলুদ ধাতব ব্যারিকেড বসানো হয়েছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়। এতে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে প্রবেশ সীমিত হয়ে পড়েছে।

পুলিশ ওই স্থানে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। পাশাপাশি শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সেখানে মেট্রোরেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছে।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে পাঠানো পুলিশের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘প্রস্তাবিত বিক্ষোভ এবং বিশৃঙ্খল জনতার চলাচলের আশঙ্কার’ কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, মেট্রোরেল সেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না। ট্রেন চলাচল বাতিল এবং সড়ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও পর্যালোচনা করতে হবে।

আদালত সরকারকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসহ একটি নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থলের ব্যবস্থা করার বিষয়টি বিবেচনা করতেও বলেছেন।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত সমাবেশস্থলের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকবে।

গত মে মাসে অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ককরোচ জনতা পার্টি। পরে দলটি যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয়।

ওই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরে দাঁড়াতে হয়।

শনিবার নয়াদিল্লিতে গণজমায়েতের পর যন্তর মন্তর অভিমুখে মিছিলের পরিকল্পনা রয়েছে বিক্ষোভকারীদের।

এদিকে, বিক্ষোভের আগে স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের আটক করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কোনো জবাব দেয়নি।

সিজেপি কর্মী সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ বিজেপির নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনীর মতো কাজ করছে।’

সিজেপিপ্রধান অভিজিৎ দীপকে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না, মোদি।’

তিনি বলেন, ‘একটি নির্ধারিত স্থানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে না দিয়ে স্বৈরশাসক পুরো রাজধানী বন্ধ করে লাখো নাগরিককে দুর্ভোগে ফেলতেই বেশি আগ্রহী।’

‘আমি আগামীকাল দিল্লিতে পৌঁছাব এবং যা-ই ঘটুক না কেন, যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল করব’, যোগ করেন তিনি।
 

Related Articles

Latest Posts