অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, অপেক্ষায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন বেতনকাঠামোতে চার মাসের বেতন পাবেন, এর মধ্যে তিন মাসের বকেয়াও থাকবে।

তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিচারক ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিচার বিভাগীয় কর্মীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো জুলাই থেকে কার্যকর করেছে এবং সে অনুযায়ী আইবাস++ সফটওয়্যারও হালনাগাদ করা হয়েছে।

সরকারি কর্মচারীরা সাধারণত প্রতি মাসে বেতন ২৩ বা ২৪ তারিখে পেয়ে থাকেন। অক্টোবরের বেতনও তারা একই সময়ে পাবেন।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরগুলো অনুমোদিত বেতন কাঠামো সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করার পর হালনাগাদ বেতন ও বকেয়া অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে হিসাব করে পরিশোধ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বেতন হিসাব করার প্রক্রিয়া হাতে-কলমে করতে হয়। এ কারণে প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮৭ হাজার। এর মধ্যে শিক্ষক ৪ লাখ ৩২ হাজার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাটির কাজ শিক্ষা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান ও তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রচার করা।

এদিকে, বিচার বিভাগের জন্য দেওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারেনি সচিব পর্যায়ের কমিটি।

ফলে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পৃথক একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন বিচারকদের ভাতা বর্তমান মূল বেতনের ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

মন্ত্রিসভা কমিটি সুপারিশগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয় বিচার বিভাগীয় চাকরিতে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করতে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

নতুন বেতন স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং চলতি ও আগামী অর্থবছরগুলোতে চারটি ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রথম ধাপে দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের বর্ধিত ৫০ শতাংশ পাবেন। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে আরও ২৫ শতাংশ এবং জুলাই থেকে বাকি ২৫ শতাংশ পাবেন।

এদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন প্রথম ধাপে বাড়বে ৪০ শতাংশ। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে বৃদ্ধি পাবে বাকি ৩০ শতাংশ।

চতুর্থ ও শেষ ধাপ শুরু হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি। তখন ২০টি গ্রেডের কর্মচারীদের অন্যান্য সব ভাতা সংশোধন করবে সরকার।

পুনর্গঠিত বেতন ও ভাতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় বেড়ে হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি খাতে বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২৪ লাখ কর্মচারী এবং ৯ লাখ ২৫ হাজার পেনশনভোগী রয়েছেন।

সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। আর সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ গ্রেডও বহাল থাকবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের মূল বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা, আর জ্যেষ্ঠ সচিবরা পাবেন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

Related Articles

Latest Posts