ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে কী ঘটেছিল? যা জানা গেল

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের পর দেখা গেছে, পাইলট ও কো-পাইলট দুজনই আহত হয়েছেন। তাদের ইতোমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উড়োজাহাজটিতে ১৮০ জন ইসরায়েলি যাত্রী ছিলেন নিশ্চিত করে ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব যাত্রী নিরাপদ আছেন।

তাবুক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, ফ্লাইদুবাই ও যাত্রীদের বক্তব্যের বরাতে হারেৎজ, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল, এএফপিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম উড়োজাহাজে কী ঘটেছিল তার তথ্য প্রকাশ করেছে।

ফ্লাইদুবাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সব যাত্রী নিরাপদ আছেন। উড়োজাহাজে থাকা ১৮০ জন যাত্রীর জন্য বিকল্প উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করছে সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, আহত পাইলটদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উড়োজাহাজটির ছবি প্রকাশ করেছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল। সেখানে দেখা গেছে, উড়োজাহাজের পেছনের অংশের রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েলের ফ্লাইট নিরাপত্তা বিষয়ক সাবেক কর্মকর্তা আরিক জের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচে নেমে আসার কারণেই রাডারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। বাইরে থেকে কোনো বস্তু উড়োজাহাজটিতে আঘাত করলে এ ধরনের ক্ষতি হওয়ার কথা নয়।’

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দুবাই থেকে তেল আবিবে যাত্রা করার দুই ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি সাধারণ জরুরি সংকেত ৭৭০০ কোড পাঠায়। এর ঠিক আগে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে উড়োজাহাজটি। এর কয়েক মিনিট পরই ছিনতাই বা অবৈধ হস্তক্ষেপের সংকেত ৭৫০০ কোড পাঠানো হয়।

এই সময়ে কী ঘটেছিল?

Footage taken by a passenger aboard the flydubai flight from Dubai to Tel Aviv after the plane took a rapid plunge. pic.twitter.com/O3vd5644pL

— Emanuel (Mannie) Fabian (@manniefabian) September 30, 2026

বিভিন্ন গণমাধ্যম ওই সময়ে যাত্রীদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করেছে অনেক গণমাধ্যম।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, আহত ক্যাপ্টেন ককপিটের বাইরে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং যাত্রীরা তাকে সাহায্য করছেন। তার পাশে আরেকজন ক্রু সদস্যকে বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে।

ভিডিওতে এক যাত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের ওপর হামলা হয়েছিল এবং আমরা পাইলটকে পাহারা দিচ্ছি।’ আরেক যাত্রী বলেন, ‘তারা পাইলটকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। আমরা হামলাকারীকে আটকাতে পেরেছি।’

ভিডিওতে বেঁধে রাখা ব্যক্তির দিকে ইঙ্গিত করে একজন বলেন, ‘এই সেই ব্যক্তি, যে তাকে ছুরিকাঘাত করেছিল।’

দ্য টাইমস অব ইসরায়েলে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক যাত্রীর মুখে রক্ত লেগে আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনার মধ্যে আছি। এই মুহূর্তে আমরা সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে পেরেছি।’

אחד הנוסעים על רגעי הדרמה: “יש פצוע קשה, המחבל קשור”; המוסד מנהל את האירוע בשיתוף שב”כ@Itsik_zuarets pic.twitter.com/iyh64lgLfy

— כאן חדשות (@kann_news) September 30, 2026

মেইতাল নামে এক নারী যাত্রী গণমাধ্যমকে জানান, তার স্বামী উড়োজাহাজের এক সন্ত্রাসীকে বাধা দিতে সাহায্য করেছেন। ককপিটে থাকা এক ক্রু সদস্য ‘উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন’ এবং যাত্রীরা তাকে বাধা দেয়।

কেউ একজন চিৎকার করে ‘ছুরিকাঘাত’ বলেছিল বলেও জানান তিনি।

উড়োজাহাজে থাকা আরেক যাত্রীকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে দেখা গেছে। সেসময় তিনি দাবি করছিলেন, কেউ উড়োজাহাজ দখলের চেষ্টা করেছে এবং হামলাকারীকে বেঁধে রাখা হয়েছে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি অন্য সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী বা মানসিকভাবে অসুস্থ কেউ এটি ঘটিয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যক্ষদর্শীরা রক্ত ও একটি ছুরি দেখার কথা জানিয়েছেন। তবে কে কাকে আক্রমণ করেছে কিংবা ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েল, সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

Related Articles

Latest Posts