চকরিয়ায় অপহরণের ৪ ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় অপহরণের অভিযোগ ওঠার ৪ ঘণ্টা পর মহাসড়কের পাশ থেকে এক ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, আজ সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে ২৮ বছর বয়সী ইসফাতুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ইসফাতুল কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফাহিমুর রহমান। তিনি কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ আহিদুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হচ্ছে না। এটি মূলত ব্যক্তিগত বিষয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘নিহত ব্যক্তি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই নারী তার দোকানে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। টাকা দেওয়ার জন্য তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং এফডিআরও বন্ধক রেখেছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই নারীর ভাইয়েরা প্রভাবশালী এবং দুবাইয়ে থাকেন। তারা ফোনে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়েছিলেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, তারা তাকে হত্যার জন্য পেশাদার খুনি ভাড়া করে থাকতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোববার রাত ১১টার দিকে অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর সড়কের পাশে দুটি বস্তার মধ্যে ভুক্তভোগীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভুক্তভোগীর মরদেহ বস্তায় ভরে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে মরদেহটি সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। অজ্ঞাতনামা সন্দেহভাজনদের শনাক্তে পুলিশ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি মাইক্রোবাসও পুলিশ পরীক্ষা করে দেখছে। ইতোমধ্যে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।’

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গতকালই মামলা করার কথা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়েছিল, মামলায় তাদের নাম থাকতে পারে। পাশাপাশি যেসব অজ্ঞাতনামা সন্দেহভাজনকে আমাদের শনাক্ত করতে হবে, তাদেরও আসামি করা হতে পারে। আমরা সন্দেহ করছি, এ ঘটনায় পেশাদার খুনিরা জড়িত ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা রাজিয়া নামের ওই নারীও পলাতক রয়েছেন। তাকেও মামলায় আসামি করা হতে পারে।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মরদেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কে তাকে হত্যা করেছে বা ঠিক কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’

Related Articles

Latest Posts