চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় থাইল্যান্ডে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত বন্যায় আটজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রবল বৃষ্টিতে ডুবেছে রাজধানী ব্যাংকক। ব্যাংকককে ‘দুর্যোগকবলিত’ এলাকা আখ্যা দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে রাজধানীতে বন্যার কারণে কেউ মারা যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে থাই সরকার।
থাইল্যান্ডের দুর্যোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ (ডিডিপিএম) জানিয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে মৃত্যুর ঘটনা বেশি।
সা কায়েওতে ৫ জন, চানথাবুরিতে ২ জন ও সারাবুরিতে একজন মারা গেছেন।
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
দেশটির ২৭টি প্রদেশে বন্যায় পাঁচ লাখের বেশি পরিবার ও ১৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিডিপিএম।
রাজধানী ব্যাংকক এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।
ব্যাংককে অন্তত ৫২ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রায় ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে খালগুলোর পানি বেড়ে সড়ক ডুবে যায়। এরপর শনিবার পুরো শহরে দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়।
ডিডিপিএম জানিয়েছে, ব্যাংককের খালগুলোয় পানির উচ্চতা স্থিতিশীল হয়েছে।
তবে এএফপির প্রতিবেদকেরা শহরের পূর্বাঞ্চলের অন্তত একটি এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যা দেখেছেন।
সেখানে বাসিন্দাদের ঊরুসমান পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মানুষকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ প্রক্রিয়ায় কাজ করতে বলা হয়েছে। অনেকেই সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন।
ফলে আজ সোমবার সকালে সড়ক ও গণপরিবহনে মানুষের চলাচল ছিল তুলনামূলক কম।
সরকারের মুখপাত্র এক্কাপোব পিয়ানপিসেস এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ব্যাংককের কয়েকটি এলাকায় এখনো পানির উচ্চতা বেশি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে পানির উচ্চতা কমেছে। ফলে আরও বেশি মানুষ রাস্তাঘাটে চলাচল করতে পারছেন।’
প্রায় প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে থাইল্যান্ডে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। সেপ্টেম্বরকে সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে অনেক বাসিন্দা বলেছেন, আগের বছরগুলোর তুলনায় এ বছর পরিস্থিতি বেশি খারাপ বলে মনে হচ্ছে।

