এশিয়ান গেমসের লড়াই শেষ। এবার ঘরে ফেরার পালা। কিন্তু জাপান থেকে দেশে ফেরার সেই পথেই থমকে গেছে বাংলাদেশ দলের ২০ সদস্যের যাত্রা। ব্যাংককের বিমানবন্দরে ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে আছেন বাংলাদেশ টেবিল টেনিস দলের ছয় সদস্য। এর মধ্যে গতকাল তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি দলের আরও ১৪ সদস্য। বিমানবন্দরের একটি বোর্ডিং গেটের পাশে অপেক্ষা করতে করতেই কাটছে তাদের সময়।
ব্যাংককে ভয়াবহ বন্যার কারণে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ব্যাপক বিলম্ব ও বাতিলের মধ্যেই তৈরি হয়েছে এই পরিস্থিতি। টেবিল টেনিস দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল শনিবার সকালে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জাপান থেকে ব্যাংককের নির্ধারিত ফ্লাইট প্রায় ১২ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। ফলে ব্যাংককে পৌঁছানোর পর তাঁদের নির্ধারিত ঢাকার ফ্লাইটটি আর ধরা সম্ভব হয়নি। এরপর একের পর এক নতুন উড্ডয়নসূচি দেওয়া হলেও সময় পেরিয়ে গেছে, বিমান আর আকাশে ওড়েনি।
আটকে পড়াদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশ দলের কোচ মোহসিনুল আলম ঝিনু, দুই পুরুষ ও তিন নারী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় এবং কাবাডি দলের ১৪ সদস্য। অন্যদিকে টেবিল টেনিস দলের দলনেতা ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈদুল হক সাদি এবং পুরুষ দলের সেরা খেলোয়াড় মুহতাসিন আহমেদ হৃদয় তুলনামূলক ভাগ্যবান। তাদের ক্যাথে প্যাসিফিকের টিকিট থাকায় তারা আগেই দেশে ফিরতে পেরেছেন।
আটকে পড়া কোচ ঝিনু দ্য ডেইলি স্টারকে ফোনে বলেন, ‘আমরা খুবই মরিয়া অবস্থায় আছি। দুই দিনে আমাদের তিনবার বোর্ডিং টিকিট দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো আমাদের ফ্লাইট ছাড়ার কোনো লক্ষণ নেই।’
তাদের চোখের সামনে অন্য বিমানগুলো একের পর এক উড্ডয়ন করছে, অথচ দেশে ফেরার কথা থাকা থাই এয়ারওয়েজের বিমানটি পড়ে আছে মাটিতেই। সোমবার সকালে নতুন করে নির্ধারিত ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।
আটকে পড়া টেবিল টেনিস দলের অন্য সদস্যরা হলেন রাহিম লিয়াম বম, ইমরুল কায়েস ইমন, সোনম সুলতানা সোমা, নওরিন সুলতানা মাহি ও সামান্থা হোসাইন তুশি।
ব্যাংককের এই দুর্ভোগের পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভয়াবহ বন্যা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪৮ ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টির পর শনিবার ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে কর্তৃপক্ষ পুরো রাজধানীজুড়ে বন্যা দুর্যোগ ঘোষণা করে। এতে বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়; কোথাও কোথাও মানুষকে কোমরসমান পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে।
ব্যাংককভিত্তিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম কাওহুন ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে থাই এয়ারওয়েজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কর্মীদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় জনবল দিয়ে বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি বিমানসংস্থাটির কিছু লাগেজ পরিবহনের গাড়িতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে উড্ডয়নকারী কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব এবং অবতরণকারী যাত্রীদের লাগেজ পেতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগছে।
তবে বিমানবন্দরে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দুর্ভোগ শুধু ফ্লাইটের অপেক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়। গত দুই দিনে বিমানসংস্থার পক্ষ থেকে তাদের থাকার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ঝিনু। শনিবার রাতে পাঁচ টেবিল টেনিস খেলোয়াড়কে খাবারের জন্য ৪০০ থাই বাত করে দেওয়া হয়েছিল। রোববার দেওয়া হয় ১২০০ বাত করে। কিন্তু রোববার সন্ধ্যার পর থেকে আর কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
বিমানবন্দরের পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ ঝরেছে ঝিনুর কণ্ঠে, ‘আমি অনেকবার থাইল্যান্ডে এসেছি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। শৌচাগারগুলো অপরিষ্কার, চারদিকে অগোছালো অবস্থা। এর আগে কখনো এমন দেখিনি। সম্ভবত এবার বন্যার কারণেই এমন হয়েছে। তবে এখন বিমানবন্দরের আশপাশে বন্যার পানি দেখতে পাচ্ছি না।’

