মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলের হারটা এখন বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মনে দাগ হয়ে আছে। তবে সেই হতাশা আঁকড়ে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। সামনে সিঙ্গাপুর, যাদের বিপক্ষে গত এক বছরে দুবার খেলেও দুবারই হেরেছে বাংলাদেশ। তাই ইন্দোনেশিয়ায় আগামীকালের ম্যাচটি শুধু ঘুরে দাঁড়ানোর নয়, পুরোনো দুই হারের জবাব দেওয়ারও সুযোগ হিসেবে দেখছেন শমিত সোম।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দুই ম্যাচই হয়েছে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে। ২০২৫ সালের জুনে ঢাকার ম্যাচে ২-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর মার্চে সিঙ্গাপুরের মাঠেও ১-০ গোলে হারতে হয়। দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের জন্য হতাশার গল্পটা ছিল প্রায় একই, সুযোগ তৈরি করেও ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়া যায়নি। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে মাঠে নামতে চান শমিতরা।
‘সিঙ্গাপুরের একটা স্ট্রাকচার আছে, একটা ভালো আইডেন্টিটি আছে, এরা যেভাবে খেলে সেটা আমরা জানি। এদের দুই-তিনটা রোটেশন আছে, যেগুলো ডেঞ্জারাস হয়। এদের দুই-তিনজন খেলোয়াড় আছে, যারা ডেঞ্জারাস। কিন্তু আমরা এগুলো আগের থেকেই জানি। একটা ফ্যামিলিয়ারিটি আছে। এরা আগের ম্যাচে যেভাবে আমাদের পানিশ করেছে, যেভাবে সাকসেস হয়েছে, সেখান থেকে আমরা শেখার চেষ্টা করছি,’ সাংবাদিকদের বলেছেন শমিত।
সিঙ্গাপুরকে তাই নতুন করে চেনার দরকার নেই বাংলাদেশের। গত এক বছরে দুইবার মুখোমুখি হওয়ায় তাদের খেলার ধরন, শক্তি কিংবা বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ভালোই ধারণা হয়েছে শমিতদের। এর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে সিঙ্গাপুরের ম্যাচও বিশ্লেষণ করেছে বাংলাদেশ। সেখান থেকে প্রতিপক্ষের কোন জায়গায় আঘাত করা যায়, আর কোন জায়গাগুলোতে সতর্ক থাকতে হবে, সেটিই এখন প্রস্তুতির বড় অংশ।
বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে সিঙ্গাপুর কীভাবে সফল হয়েছিল, সেটি বিশ্লেষণ করে নতুন কোচের অধীনে নিজেদের পরিকল্পনায় তা প্রয়োগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন শমিত, ‘আমরা দেখছি, এরা ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে কীভাবে খেলছে। সো, ওগুলো থেকে শিখতেছি, বুঝতেছি আমরা কীভাবে এক্সপ্লয়েট করতে পারব, কীভাবে আমাদের এদের স্ট্রেন্থ ডিফেন্ড করতে হবে। মোস্টলি আমরা জাস্ট প্রিপেয়ার করতেছি, রেডি থাকতে। আশা করি একটা ভালো রেজাল্ট পাইতে পারি।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগের দুই হার তাই এবার বাড়তি তাড়নাও তৈরি করছে। বিশেষ করে শমিতের কাছে মনে হচ্ছে, আগের দুই ম্যাচের অন্তত একটিতে বাংলাদেশ পয়েন্ট কিংবা জয় পেতেই পারত। সেই আক্ষেপ থেকেই এবার প্রতিশোধের সুযোগ দেখছেন তিনি, ‘আমরা তো দুইবার এদের সঙ্গে হারছি। আমাদের একটা ইচ্ছা আছে একটু রিভেঞ্জ পাইতে। কখনো আমরা ভাবছি, আমরা এটলিস্ট একটা পয়েন্ট পাইতে পারতাম বা জিততে পারতাম। সো, ইটস আ গুড টাইম আমাদের রিভেঞ্জটা খুঁজতে।’
তবে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলের হারের পর প্রতিশোধের ভাবনার সঙ্গে নিজেদের পারফরম্যান্সেও বড় পরিবর্তন চান শমিত। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ ভালো খেলতে পারেনি, এটা মেনে নিয়েছেন তিনি। দলের সবার মন খারাপ হলেও সেই হার নিয়ে পড়ে না থেকে দ্রুত পরের ম্যাচে মনোযোগ দেওয়াটাকেই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।
শমিতের ভাষায়, ‘অবভিয়াসলি মন খারাপ আমরা যেভাবে খেলছি মালয়েশিয়াতে ওইটাতে আমরা সবাই খুশি না। বাট চেষ্টা করব একটা ভালো রিঅ্যাকশন দিতে। মেইন জিনিস হলো, উই হ্যাভ টু মুভ অন টু দ্য নেক্সট গেম। এখন সবার ফোকাস সিঙ্গাপুরের সঙ্গে। কনফিডেন্সটা এখনো আছে, বিকজ আমরা সিঙ্গাপুরের সঙ্গে আগে খেলছি, আমরাও ভালো খেলছি এদের সঙ্গে। সো, আমাদের একটা ভালো মোটিভেশন আছে ভালো করতে কালকে, একটা ভালো রেজাল্ট পাইতে।’
আলাদা কোনো অনুপ্রেরণারও প্রয়োজন দেখছেন না শমিত। বরং একজন ফুটবলার হিসেবে জিততে চাওয়ার তাড়নাটাই যথেষ্ট বলে মনে করেন তিনি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করেই এবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে চান কানাডাপ্রবাসী এই মিডফিল্ডার।
‘আমাদের আসলে কোনো ইন্সপিরেশন লাগে না। আমরা জানি যে আমরা লাস্ট খেলাতে ভালো খেলি নাই। প্লেয়ারদের থেকে সবার উপর থেকে আমরা জানি যে ভালো খেলি নাই। ইন্ডিভিজুয়ালি আমিও ওইটা একই জিনিস বলতে পারি। আমরা তো ফুটবলার, আমরা জিততে চাই, আমাদের কম্পিটিশনের জন্য আমরা এখানে ভালো করতে চাই। সো, ওইটা থেকেই আমাদের শুধু মোটিভেশন,’ বলেন শমিত।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে যে বাংলাদেশকে দেখা গেছে, তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দলের প্রতিশ্রুতিই যেন দিচ্ছেন তিনি, ‘আমাদের এনার্জি আর পজিটিভ ভাইব সব আছে টিমের মধ্যে যে আমরা ভালো করতে পারি। আর কালকে আমরা জাস্ট চেষ্টা করব পুরা একটা এনার্জি দিয়ে একটু ভালো পারফরম্যান্স করতে, আনলাইক আমরা যে মালয়েশিয়াতে করছি।’

