‘আমার ছেলে বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে, জানি না’, নিখোঁজ ছেলেকে খুঁজছেন বাবা

১৮ বছর বয়সী ইমতিয়াজ কাজী গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী একটি কাভার্ডভ্যানে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। ভোলার থেকে কাজের জন্য আশুলিয়ায় এসেছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় আশুলিয়ার প্রীটি গ্রুপের কারখানার পার্কিং এলাকায় একটি লরিতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

ইমতিয়াজের বাবা সাইফুল ইসলাম ঢাকার উত্তর মাণ্ডা এলাকায় থাকেন। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে তিনি একের পর এক হাসপাতালে ঘুরছেন। কিন্তু কোথাও ছেলের সন্ধান পাচ্ছেন না।

কারখানার বাইরে দাঁড়িয়ে সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যে কাভার্ডভ্যানে তার ছেলে ছিলেন, সেটি চালাচ্ছিলেন তার শ্যালকের ছেলে নূর ইসলাম। বিস্ফোরণে নূর ইসলাম আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কিন্তু ইমতিয়াজ কোথায়, সেটি এখনো জানতে পারেননি সাইফুল ইসলাম।
তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি হাসপাতালে ছেলেকে খুঁজেছেন। কিন্তু কোনো হাসপাতালেই তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সাইফুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে বেঁচে আছে কি না, সেটিও তিনি জানেন না।

‘আমার ছেলে বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে, জানি না। আমি তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। সবাই তাদের স্বজনদের খুঁজে পাচ্ছে, কিন্তু আমি এখনো আমার ছেলেকে খুঁজে পাইনি। দয়া করে আমার ছেলেকে খুঁজে দিন,’ বলেন তিনি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাইফুল ইসলামের পরিবারসহ তিনটি পরিবার তিনজন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নিখোঁজ তিনজন বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া পাঁচটি মরদেহের মধ্যে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহগুলোর নমুনা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।’

আশুলিয়ার বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি পাঁচটি মরদেহ এখন ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এদিকে বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাভার উপজেলা প্রশাসন। সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রীটি গ্রুপের পার্কিংয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহিতদের পরিবারকে ২৫ হাজার করে আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাত জন নিহতের মধ্যে দুই জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি পাঁচ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। আপাতত দুই জনের পরিবারে সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

এছাড়া বিস্ফোরণ আশেপাশের এলাকায় কি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেগুলো এসেসমেন্ট করার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

Related Articles

Latest Posts