জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে এবং তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে।
আজ সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে।
‘সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে,’ বলেন পরওয়ার।
তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু মোটরযান ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন ও উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উপাদান হওয়ায় এর দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন, কলকারখানার উৎপাদন ব্যয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচও বাড়বে।
এর ধারাবাহিকতায় নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত এর বোঝা সাধারণ জনগণকেই বহন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরওয়ার বলেন, সরকারের উচিত ছিল জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া।
‘আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার দায় সরাসরি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না,’ বলেন তিনি।
তেলের দাম বাড়ানোর আগে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া, ব্যয় সংকোচন, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।
একইসঙ্গে বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
পরওয়ার বলেন, শুধু মূল্য বাড়িয়ে সরকারি সংস্থার আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়বে।
‘জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়,’ বলেন তিনি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

