গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ছয়তলা ভবন ধসে পাঁচ শিশুসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে আছেন।
আজ বুধবার গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, প্রতিটি তলায় চারটি করে অ্যাপার্টমেন্ট থাকা ভবনটি রাতের দিকে পাশের বাড়ি ও তাঁবুর ওপর ধসে পড়ে। ইসরায়েলি হামলায় ভবনটি আগে থেকেই কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।
২০২৪ এবং ২০২৫ সালে ভবনটিতে একাধিকবার হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর সেখানে ফিরে না যাওয়ার জন্য গাজাবাসীকে সতর্কও করা হয়েছিল। তবে বাড়িঘর ও তাঁবুর সংকটে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় গাজার বিপুলসংখ্যক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে পুনর্গঠনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, উপত্যকায় প্রায় ২ হাজার ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এএফপি জানায়, পুনর্গঠনে বিলম্বের জন্য ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়ী করেছে গাজাতে অবস্থিত হামাস-নিয়ন্ত্রিত সরকারি মিডিয়া অফিস।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সরকারি হিসাবে ওই হামলায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।
এরপর গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে ৭৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘও এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েল গাজায় অতিরিক্ত ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিলেও হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে সামরিক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন কিছু সরঞ্জাম প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে।

