শতবর্ষী নজরুল পাঠাগার ভবন এখন ‘অফিসার্স ক্লাব’

শতবর্ষী একটি গণপাঠাগারের ভবনকে সরকারি কর্মকর্তাদের ক্লাবে পরিণত করেছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এতে হতাশ হয়েছেন বইপ্রেমীরা।

অর্থসংকট ও কার্যক্রমের অভাবে ২০২৪ সালে পাঠাগারটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে জেলা প্রশাসন পাঠাগারের প্রায় ১২ হাজার ৫০০ বই সরকারি একটি ভবনে সরিয়ে নেয়। তখন বলা হয়েছিল, সেখানে পাঠাগারের কার্যক্রম আবার চালু হবে। তবে এখনো তা চালু হয়নি।

১৯২০ সালে গোপালগঞ্জ শহরের চৌরঙ্গী এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় করোনেশন ক্লাব লাইব্রেরি। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছে নিজস্ব ভবনে পাঠাগারটি স্থানান্তর করা হয়। ১৯৬৮ সালে এর নাম পরিবর্তন করে নজরুল পাবলিক লাইব্রেরি রাখা হয়।

পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠার জন্য তৎকালীন সরকার ৬০ হাজার টাকা অনুদান দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও টানা দুই বছর অর্থ সংগ্রহ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বইপ্রেমী ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়।

গোপালগঞ্জ এস এম মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক জি এম মঈনুদ্দিন ১৯৬২ সাল থেকে ৫৭ বছরেরও বেশি সময় স্বেচ্ছায় পাঠাগারের গ্রন্থাগারিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে তিনি অবসর নেন এবং ২০২২ সালে মারা যান।

২০১৭ সালে তার সহকারী হিসেবে যোগ দেওয়া বিএম মারিয়া বলেন, মঈনুদ্দিনের প্রচেষ্টায় দেশ-বিদেশের অনেক দুর্লভ বই পাঠাগারে যুক্ত হয়েছিল।

তিনি বলেন, অর্থসংকটের কারণে ধীরে ধীরে পাঠাগারটির কার্যক্রম কমে আসে।

পাঠাগার ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, পরে আরও তিনজন গ্রন্থাগারিক নিয়োগ দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন দিতে না পারায় তারা চলে যান।

একপর্যায়ে ২০২৪ সালে পাঠাগারটি বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

গত বছরের অক্টোবরে জেলা প্রশাসন শহরের ‘সমন্বিত সরকারি অফিস ভবনের’ চতুর্থ তলায় পাঠাগারের বইগুলো সরিয়ে নেয়।

তৎকালীন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বইগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ হচ্ছে না বলে পাঠাগারটি নতুন ভবনে চালু করা হবে। পুরোনো বইগুলো জাতীয় আর্কাইভে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

পরে পুরোনো পাঠাগার ভবনটি সরকারি কর্মকর্তাদের ক্লাব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘তৎকালীন ডিসি কমিটির সঙ্গে আলোচনা না করেই এককভাবে পাঠাগারটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।’

৪৫ বছর বয়সী বইপ্রেমী এবিএম আজিজুল হক বলেন, ‘এখানে আমাদের অনেকেরই অনেক স্মৃতি রয়েছে। আমরা চাই না পাঠাগারটি অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের বর্তমান ডিসি মো. আরিফ-উজ-জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বইগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং নতুন জায়গায় পাঠাগারের কার্যক্রম আবার চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পাঠাগারটি আধুনিকায়নের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি জেলা প্রশাসন বিবেচনা করছে।

Related Articles

Latest Posts