আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান নিয়মে প্রতিটি পয়েন্টই মহামূল্যবান। পয়েন্ট তালিকার ৪ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠের চার টেস্ট বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
ঘরের মাঠের সুবিধা পুরোপুরি আদায় করতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই টেস্টের একটি চট্টগ্রামের বদলে সিলেটে আয়োজনের কথা ভাবছে বিসিবি।
ইংল্যান্ড সিরিজের ভেন্যু নিয়ে বিসিবির এক কর্মকর্তা জানান, ‘সিলেটে খেলা হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’ মিরপুরে টাইগারদের সাফল্য থাকলেও চট্টগ্রাম কিন্তু সেই ভরসা দিতে পারছে না।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে থাকতে বিসিবির কাছে এখন প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ। তাই চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম আলোচনার বাইরে চলে গেছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত ফ্ল্যাট উইকেট ও আনুষঙ্গিক নানা সমস্যা বিসিবির মাথাব্যথার কারণ। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজের ভেন্যু হিসেবেও বেছে নেওয়া হয়েছে কেবল মিরপুর ও সিলেটকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চট্টগ্রামে আমরা টেস্ট খেলতে চাই না কারণ সেখানকার উইকেট বড্ড ফ্ল্যাট।’ বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের উঠতি পেস আক্রমণও এই বন্দর নগরীর উইকেটে স্বস্তি পাচ্ছে না।
ফলাফলকেন্দ্রিক টেস্ট ক্রিকেটের যুগে নির্দিষ্ট ভেন্যুর পক্ষে মত দিয়ে আসছেন ভারতীয় স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বিন। ডারউইনে অজিদের বিপক্ষে টাইগারদের জয়ের পর তিনি লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়! এটি নির্দিষ্ট টেস্ট সেন্টারের গুরুত্ব আবার প্রমাণ করল।’
চট্টগ্রামে বাংলাদেশও উল্টো চমকের শিকার হয়েছে। ২০২১ সালে পঞ্চম দিনে স্পিনারদের সহায়তা থাকার পরও কাইল মেয়ার্সের দ্বিশতকে ৩৯৫ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সিরিজগুলোতে তারা এমন উইকেট চান যেখানে পেস ও স্পিনের ভারসাম্য থাকবে।
চট্টগ্রামে ২৬ টেস্ট খেলে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ৩টিতে, হেরেছে ১৬টিতে এবং ড্র হয়েছে ৭টি। অর্থাৎ, এই মাঠ টাইগারদের জন্য খুব একটা পয়মন্ত নয়।
অন্যদিকে সিলেটে ৬ টেস্টের ৩টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ড এবং ২০২৬ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিলেটের জয়গুলো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও, বাস্তবতার চাপে বিসিবি এখন চট্টগ্রামকে দূরে ঠেলে ঢাকা ও সিলেটকেই টেস্টের প্রধান কেন্দ্র বানানোর দিকে এগোচ্ছে।

