বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা কমানোর প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে আজ রোববার এই রিট দায়ের করেন। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীরা ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা ওই প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এই প্রজ্ঞাপনটি বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এবং বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য মামলায় আপিল বিভাগের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তারা এই প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা অবিলম্বে স্থগিত করার পাশাপাশি এটি আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া জারি করা হয়েছে এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই—এমন ঘোষণা চেয়েছেন। এ ছাড়া, তারা আগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহালেরও আবেদন জানিয়েছেন।

আবেদনকারীদের মধ্যে আরও আছেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, আবদুল্লাহ সাদিক, মিজানুল হক, জায়েদ বিন আমজাদ, মোহাম্মদ শানেওয়াজ, সাব্বির রহমান ও মাহমুদুল হাসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম শাহীদি, মো. রাফিউল সাব্বির ও হাবিবুর রহমান আল হাসান।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ২০২৫ সালের ২ মার্চ একই ধরনের একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। ওই বছরের ৬ মার্চ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি রুল জারির পাশাপাশি প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

এতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে সরকার ২০২৫ সালের ৯ মার্চ সেই প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে দিয়েছিল।

আবেদনকারীদের যুক্তি, আদালতের পূর্বের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নতুন করে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।

তারা আরও যুক্তি দেন, প্রজ্ঞাপনটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী।

রিটটি এখন হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালত এখনো শুনানির জন্য  তারিখ নির্ধারণ করেননি। 

Related Articles

Latest Posts