রাজধানীর লালবাগে বালুর স্তূপের নিচ থেকে ৩ দিন ধরে নিখোঁজ এক জমি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত শেখ ওয়াসিম রনির (৪৩) বাড়ি যাত্রাবাড়ীর শেখদী এলাকায়।
পুলিশের ধারণা, পাওনা ৩ লাখ টাকা আদায় করতে গিয়ে ব্যবসায়িক সহযোগী ও বন্ধুর হাতে খুন হয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার ভোরে লালবাগ বিসি দাস স্ট্রিট ৯ নম্বর বাড়ির নিচ তলার ফাঁকা জায়গার বালু খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় লালবাগের ব্যবসায়ী মাসুমকে আটক করেছে পুলিশ।
এ তথ্য নিশ্চিত করে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামিল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। মাসুমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসার নিচের ফাঁকা জায়গায় বালু খুঁড়ে রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত রনি জমি বেচাকেনার ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। চকবাজার আশিক টাওয়ারের ইমিটেশন অলংকার ব্যবসায়ী মাসুমের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। মাসুমের কাছে ৩ লাখ টাকা পেতেন রনি।
গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় রনি তার পরিবারকে জানান, তিনি মাসুমের কাছে পাওনা টাকার চেক আনতে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিহতের মেয়ে রামিসা আক্তার সোনাম সাংবাদিকদের জানান, রনি বাড়ি না ফেরায় ওই রাতেই তারা লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডি করার সময় এবং পরে রনিকে খোঁজাখুঁজির পুরোটা সময় পরিবারটির সঙ্গেই ছিলেন মাসুম। রনির সন্ধান পেতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।
রামিসা আক্তার বলেন, সেদিন সন্ধ্যার দিকে বাবাকে খুঁজতে মাকে সঙ্গে নিয়ে লালবাগে মাসুমের বাসায় যাই। তখন বাসায় শুধু মাসুমের স্ত্রী ছিলেন। সেখান থেকেই মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে মাসুম জানান, পাওনা টাকার চেক বাবাকে দিয়েছেন তিনি। রনি কোথায় গেছেন সেটি তিনি জানেন না।
রামিসা আরও বলেন, ‘রাতে লালবাগ থানায় জিডি করার সময়ও মাসুম ছিলেন। বাবাকে খুঁজতে সঙ্গে থেকে সহযোগিতা করছিলেন তিনি। মাসুমের বাসার গলির একটি সিসিটিভি ফুটেজে বাবাকে মোটরসাইকেল চালিয়ে যেতে দেখা যায়। গলির কিছু দূরে আরেকটি সিসি ক্যামেরায় অবশ্য তাকে আর দেখা যায়নি।’
মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ বিসি দাস স্ট্রিট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করে। ফুটেজ দেখে পুলিশ ও রনির পরিবারের সন্দেহ তৈরি হয় মাসুমের ওপর, কারণ ওই দুই সিসিটিভির মাঝেই মাসুমের বাসা।
ওসি মো. জামিল হোসেন বলেন, ‘মাসুম স্বীকার করেছেন যে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাসার ভেতরেই তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাসুম সজোরে ঘুষি মারলে রনি মেঝেতে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে মাসুম তার হাত-পা বেঁধে ফেলেন এবং গলা টিপে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।’
‘এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং মরদেহ গুম করতে বাসার নিচতলার একটি ফাঁকা জায়গায় গর্ত করে রনির মরদেহ বালুর নিচে চাপা দিয়ে রাখেন,’ বলেন ওসি।
পুলিশ জানায়, মরদেহটি হাত-পা বাঁধা এবং মুখে পলিথিন প্যাঁচানো ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। বালুর নিচে চাপা থাকায় সেটি অনেকটাই পচে গেছে।
ওসি জানান, এ ঘটনায় মাসুমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

