লড়াইও জমল না, সেমিতে ভারতের কাছে বাংলাদেশের বড় হার

শেফালি বর্মার ফিফটিতে ভারতের দেওয়া চ্যালেঞ্জিং পুঁজির জবাব দেওয়ার কোনো পরিস্থিতিই তৈরি করতে পারল না বাংলাদেশ। দীপ্তি শর্মাদের তোপে মুখ থুবড়ে পড়ল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। বাজে ফিল্ডিংয়ের প্রদর্শনীর পর ব্যাট হাতে আবারও বাংলাদেশকে দেখাল বিবর্ণ। টাইগ্রেসদের অনায়াসে হারিয়ে তাই আরও একবার এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠল ভারত।

বৃহস্পতিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নারী এশিয়া কাপের সেমিতে বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারায় ভারত। আগে ব্যাটিং পেয়ে ভারতের করা ১৪৯ রানের জবাবে টেনেটুনে ১০৯ পর্যন্ত যেতে পারেন জ্যোতিরা।

৪০ বলে ৬৪ করে ভারতের জয়ে ব্যাট হাতে বড় ভূমিকা রাখেন শেফালি বর্মা। ২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বল হাতে কাজ সারেন দীপ্তি।

রান তাড়ায় শুরুটা মন্দ করেননি জুহেইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা আর দিলারা আক্তার। কিছু বাউন্ডারি পেয়ে রানে-বলে তাল মিলিয়ে চলছিলেন তারা। তবে মন্থর উইকেটে স্পিনাররা আসতেই ‘তাদের’ দৌড় থেমে যায়। দুই চারে ১৮ বলে ১৪ করে শ্রীচরণির বলে ক্যাচ উঠান জয়িতা। খানিক পর দীপ্তি শর্মার শিকার হন থিতু হওয়া দিলারা (২৬ বলে ২১)।

৩৫ রানে ২ উইকেট হারানো দলকে এরপর টেনে তোলার দায়িত্ব নেন সোবহানা মোস্তারি আর নিগার সুলতানা জ্যোতি। মোস্তারি অবশ্য পান ভাগ্যের সহায়তা। দুই অঙ্কে যাওয়ার আগে ক্যাচ পড়ে ‘তার’। জীবন যদিও কাজে লাগাতে পারেননি। বড় রান তাড়ায় ধুঁকে ধুঁকে ২৪ বলে ১৮ করে দীপ্তির বলে বোল্ড হন তিনি।

অধিনায়ক জ্যোতি টানা ব্যর্থতার ধারা অব্যাহত রাখেন এই ম্যাচেও। ১৭ বলে ১৯ করে প্রেমা রাওয়াতের বলে সহজ ক্যাচে বিদায় ‘তার’। বাকি সময়ে আসলে ম্যাচে ছিল না কোনো উত্তাপ। ফল অনেক আগেই অনুমিত হয়ে পড়ায় খেলায় ছিল না তীব্রতা।

এর আগে ক্যাচ মিসের মহড়া, বাজে ফিল্ডিংয়ে পুড়ে লক্ষ্যটা নাগালের মধ্যে রাখতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টস হেরে ব্যাট করতে নামা ভারতের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সুলতানা খাতুনের বলে শেফালির সহজ ক্যাচ বাউন্ডারি লাইনে ফেলে দেন ফাহিমা খাতুন। ৬ রানে জীবন পাওয়ার পর ১১ রানে আরেক ক্যাচ পড়ে ‘তার’। এবার ফেলেন নাহিদা আক্তার।

ওই দুই জীবনের পর হাত খুলে রান বাড়াতে থাকেন ভারতীয় ওপেনার। বড় বড় ছক্কায় হতাশা বাড়াতে থাকেন তিনি। স্মৃতি মান্ধানা রান না পেলেও দলের ওপর চাপ বাড়তে দেননি তিনি। প্রতিকা রাওয়ালকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৪ বলে যোগ করেন ৫০ রান। হারমানপ্রীত কৌরকে নিয়ে আনেন ৩৩ রান।

এই পথে ২০তম ফিফটি পেরিয়ে যান শেফালি। ফিফটি স্পর্শ করার পথে রান আউটের সুযোগ দিয়েছিলেন। ফাহিমা সহজতম সুযোগ হাতছাড়া করার পর ৫৬ রানেও বাউন্ডারি লাইনে শেফালির ক্যাচ ফেলেন শারমিন আক্তার। পরে ৬৪ রানে গিয়ে ‘তাকে’ থামাতে পারে বাংলাদেশ। সুলতানার বলে এবার ক্যাচ ফেলেননি বদলি ফিল্ডার ফারজানা।

হারমানপ্রীত সেভাবে ঝড় তুলতে না পারলেও শেষ দিকে রিচা ও দীপ্তি ভারতকে নিয়ে যান শক্ত অবস্থানে। ভারত দেড়শোর কাছে যেতেই আসলে ম্যাচের পরিণতি অনেকটা নির্ধারিত হয়ে যায়। অনুমিত ফলের বাইরে কিছু করে দেখানোর আভাসই দিতে পারেনি বাংলাদেশ।

 

Related Articles

Latest Posts