জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে কৌশল বদলাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলীয় সূত্র জানায়, তারা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) দলটির প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) তাদের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এনসিপির তিনজন জ্যেষ্ঠ নেতা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর এক বৈঠকে দলটির রাজনৈতিক কমিটি এ সিদ্ধান্ত নেয়। পরে দুই প্রার্থীই তাদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন।
ডিএসসিসি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে জানতে চাইলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘(নির্বাচন করার) সম্ভাবনা অনেক বেশি। জনগণ চাইলে এবং দল আমাকে সমর্থন দিলে নির্বাচনে অংশ নেব।’
এর আগে ২৯ মার্চ আসিফ মাহমুদকে ডিএসসিসির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল এনসিপি। পরে ১ মে একই পদে ডাকসুর সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েমকে মনোনয়ন দেয় জামায়াতে ইসলামী।
এনসিপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এনসিপি আসিফকে প্রার্থী ঘোষণার পর জামায়াত সাদিক কায়েমকে প্রার্থী ঘোষণা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দলটি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এনসিপির আরেক নেতা বলেন, জামায়াত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। অবশ্য তারা স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরের নির্বাচনে সমঝোতা করতে রাজি ছিল। ‘এ কারণেই এনসিপি ঢাকার দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে সামনে আনছে।’
তিনি বলেন, ‘ডানপন্থী রাজনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন রয়েছে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রতি। আমরা এই নির্বাচনে সেই সমর্থনটাই কাজে লাগাতে চাই।’
দলটি শিগগির আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে বলেও তিনি জানান।
আসিফ মাহমুদ এর আগে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। পরে তিনি এনসিপিতে যোগ দেন এবং দলটি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়।
দলীয় সূত্র জানায়, জোটের সমঝোতার কারণে আসিফ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। এবারও ঢাকার দক্ষিণ নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় এনসিপি তাকে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি আসিফ মাহমুদ।
এদিকে, সূত্র জানায়, জামায়াত, এনসিপি ও জোটের অন্যান্য শরিক দল নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জোটের নেতারা বলেছেন, এতে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের ঐক্যে কোনো প্রভাব পড়বে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জোটের শরিকরা ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সে অনুযায়ী প্রতিটি শরিক দল আলাদাভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাই কোন দল কাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি দলই সম্পূর্ণ স্বাধীন।’

