নিজেদের ভুল ঢাকতেই নতুন ইস্যু তৈরি করছে পিসিবি, দাবি আকমলের

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে হারের পর কয়েকজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আর বোর্ডের এই উদ্যোগকেই ‘বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার কামরান আকমল।

সোমবার পিসিবির মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস বিভাগের পরিচালক আমির মির জানান, গণমাধ্যমে খেলোয়াড়দের অসদাচরণ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড।

এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে ব্যর্থতার পর সাত খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পিসিবি। তাদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক ও সালমান আলী আগা। একই সঙ্গে টেস্ট দলের কোচ সরফরাজ আহমেদকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। তার জায়গায় এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাইক হেসনকে।

এর মধ্যেই কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, যুক্তরাজ্যে থাকা পাকিস্তানি দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পিসিবি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সমর্থকদের মধ্যে নানা সন্দেহ তৈরি হয়। তবে মোবাইল ফোন জব্দের খবরটি পিসিবি এখনো নিশ্চিতও করেনি, অস্বীকারও করেনি। বোর্ডের বক্তব্য, আপাতত শুধু তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গেই ‘গেম প্ল্যান’ অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন কামরান আকমল, ‘খেলোয়াড়েরা মানসিকভাবে খুবই চাপে থাকার কথা। গত দুই দিনে আমরা শুনছি, তাদের ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছে। খবর এসেছে, ফোনের তথ্য অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হয়েছে এবং চার ঘণ্টার জন্য ফোনগুলো নিয়ে রাখা হয়েছিল। আমি শুনেছি, ইংল্যান্ডে থাকা চার খেলোয়াড়ের ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে দলের পরিবেশ খুব খারাপ হওয়ার কথা। এই মুহূর্তে খেলোয়াড়েরা আতঙ্কিতও থাকতে পারে।’

আকমলের মতে, এমন পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা পাকিস্তান দলের জন্য খুব কঠিন হবে। তার প্রশ্ন, প্রথম দুই টেস্টের পর সাত খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনার মতো সিদ্ধান্ত এত তাড়াহুড়ো করে কেন নেওয়া হলো।

‘এই পরিস্থিতি থেকে দলের বেরিয়ে আসা খুব কঠিন হবে। এর আগে ব্যবস্থাপনাসহ সাতজন খেলোয়াড়কে পরিবর্তন করেছেন। এখন আমার মনে হচ্ছে, পিসিবি বিষয়টি আরও ভালোভাবে সামলাতে পারত। আপনারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। আমার মনে হয়, পরে বুঝতে পেরেছেন যে এত তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ঠিক হয়নি,’ বলেন আকমল।

এরপরই পিসিবির বর্তমান তদন্ত নিয়ে নিজের সন্দেহের কথা জানান আকমল, ‘তাই আমার মনে হচ্ছে, এখন একটা বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, সাত খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠিয়ে যে বড় ভুলটা আপনারা করেছেন, এখন মনে হচ্ছে মানুষ যেন সেই বিষয়টি নিয়েই ব্যস্ত থাকে, সেটাই আপনারা চাইছেন।’

তবে ফোন জব্দের ঘটনা মানেই ম্যাচ ফিক্সিং বা দুর্নীতির মতো গুরুতর কোনো বিষয় ঘটেছে, এমনটা ভাবা ঠিক হবে না বলেও সতর্ক করেছেন আকমল, ‘শুধু দুর্নীতি নয়, আরও অনেক বিষয় থাকতে পারে। দলের খবর গণমাধ্যমে ফাঁস করার ঘটনাও হতে পারে। যদি সত্যিই ফোন নিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে আমার মনে হয় বিষয়টি এমনও হতে পারে।’

এ অবস্থায় পিসিবিকে তদন্তের ফল প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার, ‘আমি এখন পিসিবিকে অনুরোধ করব, তারা যেন তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তা না হলে সমর্থকেরা চিরকাল এই খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।’

Related Articles

Latest Posts