সিরিয়ায় আসাদ আমলের পরমাণু চুল্লি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ছিল: আইএইএ

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের আমলে নির্মিত একটি পরমাণু স্থাপনা সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারের উপযোগী ছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থাটি সিরিয়ার নতুন সরকারের সহযোগিতায় ওই স্থাপনা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।

আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি সোমবার ভিয়েনায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চুল্লিটিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী বিভাজ্য পদার্থ উৎপাদন করা সম্ভব ছিল।

আল জাজিরা জানায়, গ্রসির এই মন্তব্যের এক সপ্তাহ আগে আইএইএ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, আগস্টে সংস্থাটির একটি দল সিরিয়ার বেশ কয়েকটি স্থাপনা পরিদর্শন করে সেখানে যাচাই কার্যক্রম চালিয়েছে।

দেইর আজ-জোরের ওই স্থাপনায় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আইএইএ জানিয়েছে, মাটির নিচ থেকে উন্মোচিত শীতলীকরণ অবকাঠামো একটি পরমাণু চুল্লির অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

খননকাজ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই স্থাপনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসাদ সরকারের সময় সিরিয়া একটি বিস্তৃত ও অঘোষিত পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করেছিল বলে ধারণা করা হয়। এর অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় দেইর আজ-জোরে একটি পরমাণু চুল্লি নির্মাণ করা হয়েছিল।

২০০৭ সালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় স্থাপনাটি ধ্বংস হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে সিরিয়া স্থাপনাটি মাটির সঙ্গে সমান করে দেয়। তবে এ বিষয়ে আইএইএর করা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব দেয়নি তৎকালীন সিরীয় কর্তৃপক্ষ।

গ্রসি জানান, আগস্টে আইএইএর পরিদর্শকেরা স্থাপনাটিতে পৌঁছাতে গিয়ে দেয়াল ভাঙতে বাধ্য হন। লুকিয়ে রাখা পরমাণু উপাদান পর্যন্ত পৌঁছাতে তাদের ‘খুব কঠিন ও সরু পথ’ পাড়ি দিতে হয়েছে।

তার ভাষ্য, স্থাপনাটিতে ‘সব জায়গায় বাক্স ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল’।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওই পরমাণু উপাদান এখন আইএইএর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। গ্রসি জানান, সংস্থাটির পরিদর্শকেরা সেখানে নজরদারি ক্যামেরাও স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

আইএইএ জানিয়েছে, সাবেক সিরীয় কর্তৃপক্ষ পরমাণু উপাদান, স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বিষয়ে সংস্থাটিকে তথ্য দেয়নি।

দেইর আজ-জোরের পরমাণু চুল্লির পাশাপাশি একটি জ্বালানি তৈরির কারখানার তথ্যও পেয়েছে আইএইএ। সেখানে ওই চুল্লির জন্য পরমাণু জ্বালানি তৈরি করা হতো। এ ছাড়া পরমাণু জ্বালানি, ইউরেনিয়ামের বর্জ্য ও অন্যান্য বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য একটি গুদামের তথ্যও রয়েছে।

আল জাজিরা জানায়, গত মাসে সিরিয়া সফরের সময় আইএইএর একটি দল আরও একটি অঘোষিত স্থাপনা পরিদর্শন করে।

২০২৪ সালে আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সিরীয় প্রশাসন গত জুলাইয়ে ওই স্থাপনার অস্তিত্বের কথা আইএইএকে জানায় এবং পরমাণু পরিদর্শকদের সেখানে তদন্তের জন্য আমন্ত্রণ জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের নিজস্ব অঘোষিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এর ফলে দেশটিকেই মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে ইসরায়েল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।

Related Articles

Latest Posts