বাংলাদেশ ফুটবলে প্রবাসী তারকাদের জোয়ারের মাঝে আলোচনায় এসেছেন তরুণ ডিফেন্ডার জিদান ইউসূফ। জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী, শমিত শোমদের কাতারে তিনিও জাতীয় দলের ভরসা হতে পারেন কিনা এখনো দূরের বিষয়। তবে জাতীয় দলের কোচ থমাস ডুলি জিদানের মাঝে সম্ভাবনার আলো দেখছেন।
মেক্সিকান মা আর বাংলাদেশি বাবার সন্তান এই উদীয়মান ডিফেন্ডার বর্তমানে খেলছেন এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে। তার টেকনিক্যাল পরিপক্বতা ও শারীরিক সামর্থ্য কাড়তে পেরেছে জাতীয় দলের হেড কোচ ডুলির মন। তবে মন ভরলেই যে সরাসরি একাদশে কিংবা জাকার্তাগামী বিমানে টিকিট মিলবে—এমন ভাবার সুযোগ নেই! ডুলি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, নাম বা সম্ভাবনা নয়, অনুশীলনে নিজেকে এক নম্বর হিসেবে প্রমাণ করলেই কেবল মিলবে সুযোগ।
রোববার বিকেলে জাতীয় দলের অনুশীলন সেশনের আগে সংবাদ সম্মেলনে তরুণ এই সেন্টার-ব্যাককে নিয়ে কোচের প্রশংসার মাঝেও লুকিয়ে ছিল এক চরম বাস্তবতা। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই শেষে জিদান যখন মূল জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন, তখন তাকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চান না ডুলি। অভিজ্ঞতার খাতা শূন্য থাকা এই তরুণকে স্রেফ প্রবাসী তকমায় একাদশে নামিয়ে দেওয়ার ঘোর বিরোধী এই কঠোর কোচ। তবে অনুশীলনে যদি তিনি তপু বর্মণদের চেয়ে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে পারেন, তবেই খুলবে মূল দলের দরজা।
অনূর্ধ্ব-২০ কোয়ালিফায়ার্সে দেশের হয়ে লড়াই করা জিদানের ডিফেন্সিভ পজিশনিং ও ওয়ান-অন-ওয়ান ট্যাকেলিং দক্ষতা আগে থেকেই নজরে ছিল জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের। রোববার অনুশীলনের আগে গণমাধ্যমের সংগে আলাপে জিদানকে নিয়ে ডুলি নিজের আগ্রহ প্রকাশ করে জানান, ‘যুব দলের খেলা শেষ করার পর জিদান এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আমি দলে দেখতে চেয়েছিলাম। সে এখন সেখানে খেলছে এবং খেলা শেষে এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে। সে এলে আমি তাকে খুব কাছ থেকে দেখতে চাই এবং সিনিয়র টিমের ড্রেসিংরুম ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটা অভিজ্ঞতা দিতে চাই।’
ডুলির অধীনে জাতীয় দলের আধুনিক কৌশলে নিচ থেকে আক্রমণ তৈরি করা বা বল-প্লেয়িং ডিফেন্ডারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেক্সিকান ফুটবল সংস্কৃতির ছোঁয়া আর শারীরিক শক্তির কারণে জিদানকে সেই কৌশলে বেশ মানানসই ভাবা হচ্ছে। কিন্তু ডুলির কাছে নামের চেয়ে পারফরম্যান্সই শেষ কথা। কেবল প্রবাসী পরিচয় বা সম্ভাবনার কথা শুনেই জিদানকে একাদশে বা বিমানে তুলবেন না ডুলি। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট শেষ করে জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর জাকার্তা সফরের মূল স্কোয়াডেই তাকে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নে কোচের জবাব ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং ও স্পষ্ট।
ডুলি সরাসরিই কন্ডিশন জুড়ে দিয়ে বলেন, ‘যদি সে অনূর্ধ্ব-২০ দলের খেলা শেষ করে এসে আমাদের দেখায় যে ডিফেন্সে সে-ই এক নম্বর খেলোয়াড়, তবে অবশ্যই আমরা তাকে জাকার্তায় নিয়ে যাব। আর সে যদি বাকিদের চেয়ে ভালো হতে না পারে, তবে যাদের ওপর আমরা আগে থেকে আস্থা রাখছি তাদের দিয়েই খেলাব। আমরা দেখতে চাই ভবিষ্যতে সে আমাদের কতটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আমাদের খুব ভালোভাবে পরখ করা উচিত।’
ডুলির কথায় একটা বিষয় পরিষ্কার—জিদানের প্রতি তার আগ্রহ যেমন খাঁটি, তেমনই তার চ্যালেঞ্জটাও কঠিন। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ কোয়ালিফায়ার্স শেষে ক্যাম্পে যোগ দিয়ে কোচের কঠোর পরীক্ষায় পাস করে জিদান সত্যিই মূল রক্ষণের ভরসা হতে পারেন নাকি বেঞ্চেই কাটাতে হয়, তা দেখতে এখন সময়ের অপেক্ষা।

