সাভারে পুলিশ সদস্য হত্যায় একজন গ্রেপ্তার

ঢাকার সাভারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার জহিরুল সাভারের বড়দেশি এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।

বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম।

তিনি বলেন, এসবির উপ-পরিদর্শক আলতাব হোসেনকে (৫৭) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহত কর্মকর্তার স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে রাতেই অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, জহিরুল ইসলাম এ ঘটনার হোতা। হত্যাকাণ্ড এবং হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, সবার নামই বলে দিয়েছেন তিনি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, পরিবারের সদস্য ও পুলিশ জানায়, নিহত মো. আলতাব হোসেন এসবির ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ওই এলাকায় নিজস্ব জমিতে আলতাবের দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা আছে।

গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে তিনি দেখতে পান, তাদের কারখানাসংলগ্ন অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক বৃদ্ধ আবুল কালামকে কয়েকজন মারধর করছেন। তিনি তাদের থামানোর চেষ্টা করেন এবং ঘটনার প্রতিবাদ করেন।  

একপর্যায়ে তারা আলতাবকে মারধর শুরু করেন। পরে প্রাণ বাচাতে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে দৌড়ে তার কারখানায় অবস্থান নেন। কারখানায় তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৬) তখন কাজ করছিল।

এরইমধ্যে সেখানে প্রাইভেট কারে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হয়ে কারখানায় গিয়ে আলতাব ও আরিফের ওপর হামলা চালান। আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।

অটোরিকশা চালক ও গ্যারেজ মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার গ্যারেজের সামনে রাস্তার পাশে আমার একটি অটোরিকশা রাখা ছিল। একটি প্রাইভেটকারে চার পাঁচজন এসে প্রথমে জানতে চায় রিকশা কে রেখেছে। আমি এগিয়ে গিয়ে বলি আমি রেখেছি। তখন তারা আমাকে মারধর শুরু করে।

তিনি বলেন, আলতাব ভাই প্রতিবাদ করলে তারা তাকেও মারধর শুরু করে। এরপর তিনি দৌড়ে নিজের কারখানার ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন হামলাকারীদের সঙ্গে আরও লোকজন মিলে কারখানায় গিয়ে আলতাব ভাই ও তার ছেলেকে মারধর করে।  

আলতাফের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, এলাকায় সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার আছে, যেটি তাদের কারখানার সামনে দিয়ে প্রতিনিয়ত ঘোরাফেরা করে। গাড়িতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকে। কারখানার বাম পাশে একটি জায়গায় বালু ফেলায় একটি মাঠের মতো হয়েছে। সেখানে তারা নেশা করে। তারা পরিকল্পিতভাবে তার বাবাকে হত্যা করেছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

Related Articles

Latest Posts